অধ্যায়-১

তথ্য ও প্রযুক্তির এর গুরুত্ব


বর্তমান সময়কে বলা হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সময়। তথ্য প্রযুক্তি মূলত একটি সমন্বিত প্রযুক্তি যা যোগাযোগ থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে বহুবিদ প্রযুক্তির সম্মিলনে দীর্ঘদিন ধরে চর্চার ফলে সমৃদ্ধি লাভ করা একটি বিজ্ঞান। তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া বর্তমান সময়ে একদিনও চলা সম্ভব না। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে জীবনের সর্বক্ষেত্রেই এসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। যেমন-
* তাৎক্ষণিক ভাবে যোগাযোগ।
* ই-কমার্সের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পণ্যের বাজার সৃষ্টি করা।
* ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা ও শপিং করা যায়।
* ই-গর্ভন্সের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর সমূহের মধ্যে কাজের সম্বনয় ঘটাতে পারে।
* সিটিজেন চার্টারের মতো নাগরিক সুবিধা গুলো ভোগ করা যায়।

আর এই গুলোই সম্ভব হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে। এই তথ্য প্রযুক্তিকে সহজ , আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য যুক্ত হয়েছে ওয়েব প্রোগ্রামিং এবং ওয়েব ডিজাইনিং। যার ফলে আমরা এখন একই ওয়েব পেজের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের তথ্যের সমন্বয় ঘটাতে পারি। যার ফলে একই পেজের মধ্যে টেক্স, সি’র ছবি, অডিও, ভিডিও এবং অ্যানিমেশন ইত্যাদি বিষয় গুলোর যে সু-সজ্জিত সমন্বয় তা শুধু মাত্র এই ওয়েব ডিজাইন এবং ওয়েব প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে করা সম্ভব। আর এই ওয়েব পেজ গুলো প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার জন্য এর সাথে অনেক গুলো পেজের লিংক থাকে। এই লিংক তথ্য গুলো আকর্ষণীয় করে ইউজারের কাছে উপস’াপনের জন্য এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওয়েব প্রোগ্রামিং টুলস। এই টুলস গুলো সম্পর্কে আমরা পিজিডি ইন আইসিটি-তে খুব ভালভাবে জানতে পারলাম। যার ফলে আমরা নিজেদেরকে প্রতিযোগিতা মুলক বিশ্বে সাবলম্বি করে তুলতে পারছি।

 


ব্যবসায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব


আধুনিক জীবন যাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) গুরুত্ব অপরিসীম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুুক্তি মানুষের জীবনকে করেছে উন্নত, জীবনযাত্রাকে করছে সহজ। তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবিকাশের ফলে পরিবর্তন এসেছে বিভিন্ন স্তরে। জীবনের অন্য সব ক্ষেত্রের মতো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটির প্রয়োগ ব্যবসা-বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন এনেছে। যেকোনো ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য থাকে কম সময়ে এবং কম খরচে পণ্য বা সেবা উৎপাদন করা। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে তা ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া। পণ্যের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে কর্মী ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের দক্ষতার মানোন্নয়ন, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, বিপণন ও সেবার বিনিময় মূল্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আইসিটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যারের সমন্বিত এবং উদ্ভাবনী প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার উন্নয়নের পাশাপাশি মুনাফাও বাড়াতে পারে।

আইসিটির সহায়তায় ব্যবসায় নিম্নলিখিত সুবিধা অর্জিত হয়-

১. আইসিটি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কম সময়ে অধিক উৎপাদন করা যায়। তাতে উৎপাদন খরচ হ্রাস পায়।

২. মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যবসা সম্পর্কিত সব ধরনের যোগাযোগ দ্রুত সম্ভব হয়।

৩. ফ্যাক্সের মাধ্যমে জরুরি লিখিত তথ্য ও ছবি তাৎক্ষণিক পাঠানো যায়।

৪. ইমেইলের মাধ্যমে ব্যবসা সম্পর্কিত লিখিত যোগাযোগ দ্রুত সম্ভব হয়।

৫. ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পণ্যসেবার খবর সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, ব্লগ কিংবা সামাজিক যোগাযোগ সাইটের মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে কিংবা বিনা মূল্যে পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায়।

৬. বিভিন্ন ধরনের ডাটাবেইস সফটওয়্যার ব্যবহার করে পণ্যের মজুদ, কর্মীদের তথ্যাবলি, গ্রাহকের তথ্যাবলি এবং সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা যায়।

৭. ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের মূল্য সরাসরি নিজের ব্যাংক হিসাবে সংগ্রহ করতে পারে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।


সরকারি কার্যক্রমে আইসিটির প্রয়োগ


যেকোনো দেশের সরকার জনগণের জন্য নিরাপদ, সৃজনশীল উদ্ভাবনের বিকাশ হয় এমন কর্মসংস্থান এবং সর্বোপরি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। সরকারের সাধারণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে আইন ও নীতি প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়ন। সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সরকারি সব কাজেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ রয়েছে। যেমন-

বর্তমানে ওয়েবসাইট বা পোর্টালের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা কিংবা নিয়মকানুন সর্বসাধারণের কাছে খুব সহজে পৌঁছে দিচ্ছে।

সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা, আইন ইত্যাদি প্রণয়ন এবং অনেক ক্ষেত্রে সংশোধন বা পরিমার্জনের জন্য জনগণের মতামত ইন্টারনেটের মাধ্যমে গ্রহণ করে থাকে।

 


গবেষণায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি


গবেষণাকাজে আইসিটির ৩টি ক্ষেত্রের বর্ণনা দেওয়া হলো:
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা ধরনের উৎকর্ষ সাধনে গবেষণার প্রয়োজন। মানুষ সাহিত্য, শিল্প, সমাজবিজ্ঞান, গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যা নিয়েই গবেষণা করুক না কেন, তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া চিন্তাই করা যায় না।
তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে : গবেষণার জন্য প্রয়োজন নানা ধরনের তথ্য। আর এসব তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, প্রক্রিয়া করতে হয়, বিশ্লেষণ করতে হয় এবং গবেষণা শেষে তথ্যকে সুন্দরভাবে প্রদর্শন করতে হয়। আগে মানুষকে এসব কাজ দৈহিক পরিশ্রম করে করতে হতো, কিন্তু কম্পিউটার চলে আসার পর এসব কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে।
তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গবেষণা : তাত্ত্বিক গবেষণায় গবেষকেরা একটা বিষয়ের তাত্ত্বিক অংশটুকু নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন এ জন্য তাঁরা কম্পিউটারের ওপর নির্ভর করে। ল্যাবরেটরিতে ব্যবহারিক গবেষণা নানা রকম যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়।

 


চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি


টেলিমেডিসিন হলো যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহাযে্য দূর থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণপদ্ধতি। এ ব্যবস্থায় পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ যেকোনো সমস্যায় যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এবং চিকিৎসাসেবা নিতে পারে।
বিজ্ঞানের যে কয়টি শাখা দ্রুত উন্নতি করেছে, চিকিৎসাবিজ্ঞান তার মধ্যে অন্যতম। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বের যেকোনো স্থানে বসেই এখন চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা সম্ভব। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে চিকিৎসকেরা আর অনুমানের ওপর নির্ভর করে না। একজন রোগী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শরীরকে সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা এবং রোগ নির্ণয় তথ্যপ্রযুক্তির সাহাযে্য করা যায়। শুধু তা-ই নয়, প্রাপ্ত তথ্যগুলো ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। যখন কোনো ওষুধের প্রেসক্রিপশন করতে হয়, সেটাও তথ্যপ্রযুক্তির কারণে সঠিক হয়। চিকিৎসার প্রয়োজনে নতুন নতুন যন্ত্রপাতিও তৈরি হচ্ছে।
দেশের কোটি কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি সম্ভব হয় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে নিখঁুত পরিকল্পনা আর তা কার্যকরের মাধ্যমে। তথ্যপ্রযুক্তির কারণে অন্য মাত্রায় গবেষণা সম্ভব হয়েছে। আগে শুধু রোগের উপসর্গ কমানো হতো। এখন সত্যিকারভাবে রোগের কারণটিই খুঁজে বের করে সেটিকে অপসারণ করা হয়। শুধু তা-ই নয়, এখন যেমন সব মানুষ একই ওষুধ খায়, ভবিষ্যতে প্রত্যেক মানুষের জন্য আলাদা করে তার শরীরের উপযোগী ওষুধ তৈরি হবে। এমনকি ভবিষ্যতে হাজার মাইল দূরে থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্জনরা রোগীর অপারেশন করতে পারবেন। তাই বলা যায়, চিকিৎসাক্ষেত্রে আইসিটির ভূমিকা অপরিসীম।