অধ্যায়-৫

শিক্ষা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার


 

আধুনিক জীবন যাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুুক্তি মানুষের জীবনকে করেছে উন্নত, জীবনযাত্রাকে করছে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। ইন্টারনেটের ব্যবহার আমাদের জীবনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিনিয়ত দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও ইন্টারনেটের ব্যবহার আজ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। শিক্ষার জন্য কাগজে ছাপা বই একটি অত্যাবশকীয় উপকরণ। বর্তমানে কাগজে ছাপা বইয়ের পাশাপাশি ইন্টারনেটে ই-বুক আকারে প্রকাশিত হচ্ছে। যেগুলো একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো মুহূর্তে ডাউনলোড করে পড়া যায়। পাঠ্য বইয়ের কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় বুঝতে না পারলে ইন্টারনেটের সাহায্য নেওয়া যায়। ইন্টারনেটের কারণে শিক্ষার্থীদের এখন শুধু ক্লাসরুম কিংবা স্কুলের শিক্ষকদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে না। আজকাল অসংখ্য চমকপ্রদ কোর্স ইন্টারনেটে দেওয়া হয় এবং যে কেউ কোর্সগুলো গ্রহণ করতে পারে। বিজ্ঞান শিক্ষায় আমাদের নানা ধরনের পরীক্ষা বা এক্সপেরিমেন্ট করতে হয়। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় সেগুলো করা যায় না। কিন্তু ইন্টারনেটের কল্যাণে এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো আমারা দেখতে পারি।

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য ইন্টারনেট থেকে এখন সহজেই পাওয়া যায়। শিক্ষাব্যবস্থায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কাজগুলো এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব দ্রুত ও সহজে সম্পন্ন হচ্ছে। বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল এখন মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে চলে আসছে।

কোনো বিষয়ে কারো কোনো তথ্য জানার ইচ্ছা হলে ইন্টারনেটে সার্চ করলে সে তথ্যগুলো খুব সহজেই পাওয়া যায়। শিক্ষার ক্ষেত্রে দিন দিন ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন মানুষ যেকোনো মুহূর্তে ইন্টারনেটের কারণে লাখ লাখ বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে। শুনে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, ইচ্ছা করলে যে কেউ শুধু একটি বই নয়, আস্ত একটি লাইব্রেরি তার পকেটে রেখে দিতে পারবে।

 


দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার


 

দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহারের কোনো শেষ নেই। সাধারণত আমরা দিনটা শুরু করি খবরের কাগজ পড়ে। আজ আর শুধু কাগজে ছাপা খবরের কাগজই নয়, ইচ্ছা হলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন খবরের কাগজে দিনের খবরাখবর পড়া যায়। খবরের কাগজের পাশাপাশি আমরা রেডিও বা টেলিভিশনে খবর শুনতাম, দেখতাম; এখন সেটিও ইন্টারনেটনির্ভর হয়ে গেছে। ঘর থেকে বের হয়ে পথ-ঘাটের তথ্য আমরা ইন্টারনেট থেকে পেয়ে যাই। গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস আমাদের অবস্থানটি নিখুঁতভাবে বলে দিতে পারে। তাই কোনো ঠিকানা ইন্টারনেটের সাহায্যে খুব সহজে পাওয়া যায়। বর্তমানে নতুন সব গাড়িতেই পথ দেখানোর জন্য জিপিএস লাগানো থাকে। এখন কর্মক্ষেত্রে কম-বেশি সবাই ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। অফিশিয়াল কাজে ইমেইল আদান-প্রদান নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। ইন্টারনেটে আজকাল দেশ-বিদেশে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সামনাসামনি দেখে কথা বলার প্রচলন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জীবনকে আনন্দময় করার জন্য বিনোদনের একটি ভূমিকা থাকে। ইন্টারনেট বিনোদনের ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রাখছে। এখন ঘরে বসেই অনেক লেখকের বই, ই-বুক হিসেবে ইন্টারনেট থেকে পড়া যায়। শুধু বই নয়, খেলা, গান, চলচ্চিত্রসহ অনেক বিনোদনের উপাদান এখন ইন্টারনেটের কারণে অনেক বেশি সহজলভ্য হয়েছে।

আমরা যদি জনপ্রিয়তার দিক থেকে বিবেচনা করি, তবে দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার হয় সামাজিক নেটওয়ার্কে। সেখানে একজন অন্যজনের সঙ্গে ভাব বিনিময় করে, ছবি, ভিডিও বিনিময় করে, কথাবার্তা বলে কিংবা বিশেষ কোনো একটি বিষয়কে আলোচনায় নিয়ে আসে।

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির ফলে বিশ্বের যেসব দেশ এগিয়ে আছে, তারা সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট যোগাযোগ ছাড়া একটি মুহূর্তও চলতে পারে না এবং আমরাও খুব দ্রুত সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

 


দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধানে ইন্টারনেটের ভূমিকা


 

আধুনিক জীবন যাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুুক্তি মানুষের জীবনকে করেছে উন্নত, জীবনযাত্রাকে করছে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। ইন্টারনেটের ব্যবহার আমাদের জীবনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিনিয়ত দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইন্টারনেটে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা, পরিবহন, বাণিজ্য থেকে শুরু করে সরকার, সরকার পদ্ধতি ও রাজনৈতিক হালচালের প্রায় সব ধরনের তথ্য সেখানে রয়েছে।

দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যা সমাধানের প্রথম হাতিয়ার হচ্ছে তথ্য। ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহের পর সেটি ব্যবহার করে অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়। বিশ্বের জনপ্রিয় তথ্য খোঁজার সাইট বা সার্চ ইঞ্জিন হলো গুগল (www.google.com). এতে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তথ্য খুঁজে বের করা যায়। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিবিদরাও একটি বাংলা সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করেছেন, যার নাম পিপীলিকা (www.pipilika.com). শিক্ষাসংক্রান্ত প্রায় সব ধরনের সহায়ক তথ্য ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা সমাধানের জন্য ইন্টারনেটে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে। ওলফ্রামআলফা (www.wolframalpha.com) নামে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট আছে, যেখানে বিভিন্ন গাণিতিক কাজ করার ব্যবস্থা রয়েছে, এখানে বিভিন্ন গাণিতিক সমস্যারও সমাধান পাওয়া যায়।

এ ছাড়া দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করার জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক অনেক সহায়তা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। মোবাইল কম্পানিগুলোর ইন্টারনেট সাপোর্ট সেন্টারগুলো গ্রাহকদের মোবাইল ফোনসংক্রান্ত সমস্যাবলির সমাধান দিয়ে থাকে। আবার অনেক ইমেইলভিত্তিক সেবাকেন্দ্র বিশ্বজুড়ে পরিচালিত হয়। এসব সেবাকেন্দ্র থেকে ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়।

সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম যেমন- ব্লগ, ফেসবুকের মাধ্যমে সমমনা সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা যায়। এর ফলে অনেক স্থানীয় সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে।

এরূপ নানাভাবে ইন্টারনেট তথা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে থাকে।


ইমেইল


 

ইমেইল কথাটির অর্থ হলো ‘ইলেকট্রিক মেইল’ বা ইলেট্রনিক চিঠি।

ইমেইলের মাধ্যমে আমরা কোনো লেখা বা ছবি অন্য যেকোনো ইমেইল ঠিকানায় ইলেকট্রনিকভাবে পাঠাতে পারি। যাদের ইমেইল ঠিকানা থাকে তাদের প্রত্যেকের একটি করে মেইল বক্স থাকে। কোনো ইমেইল ঠিকানা থেকে ইমেইল এলে তা মেইল বক্সে জমা হয়। ঠিকানাটি যার সে মেইল বক্স থেকে ইমেইলটি যখন ইচ্ছা খুলে পড়তে পারে। এই মেইল পড়া ও পাঠানোর কাজটি প্রায় সময়ই বিনা পয়সায় করা যায়। ইমেইলের সঙ্গে যেকোনো ফাইল যুক্ত করা যায়। সেটি হতে পারে ওয়ার্ড ডকুমেন্ট, এক্সেল ফাইল বা ছবি।

ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত একটি কম্পিউটার থাকলেই বিনা মূল্যে ইমেইল ঠিকানা খোলা যায়। ইমেইল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পাঠানো যায়। ইমেইল গ্রহণের জন্য কম্পিউটার খোলা থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো সময় ইমেইল পাঠানো যায় আবার পড়াও যায়। একসঙ্গে অনেককে একই চিঠি পাঠানো যায়। গোপনীয়তা বজায় রেখেও ইমেইল পাঠানো যায়। তবে ইমেইল খোলার ব্যাপারে কিছু সতর্কতা জরুরি। যেমন সন্দেহভাজন কোনো ইমেইল এলে তা খোলা উচিত নয়। কারণ এর সঙ্গে ভাইরাস কম্পিউটারের ক্ষতি করতে পারে।

ওয়েবে অনেক ইমেইল খোলার সাইট রয়েছে; যেমন- ইয়াহু মেইল সার্ভিস, জি-মেইল ইত্যাদি।