সৈয়দ মাহবুব হাসান আমিরী

আইসিটি বিভাগ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ

শিক্ষা

থিসিস লেখার প্রচলিত রীতি

থিসিসের কাঠামো ও লেখার রীতি সম্পর্কে সর্বজন স্বীকৃত কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে থিসিসের কাঠামো ও লেখার রীতি মোটামুটি একটি আদর্শের উপর ভিত্তি করে হয়। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব রীতি-নীতি আছে। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই তা মেনে চলতে হয়। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের থিসিসের কাঠামো বা রীতি এক নয়। শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথ্যপঞ্জি বা পাদটিকায় রেফারেন্স লেখার জন্য যে রীতি ব্যবহার করে থাকেন, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ তথ্যপঞ্জি লেখার জন্য সে রীতি নাও ব্যবহার করতে পারেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ থিসিসের যে কাঠামো বা লেখার যে রীতি ব্যবহার করে থাকেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগ হয়ত ঐ কাঠামো বা রীতি নাও ব্যবহার করতে পারেন। থিসিস লেখককে তার বিভাগের নির্দিষ্ট কাঠামো ও রীতিকে খুঁজে বের করতে হবে এবং অবশ্যই তা মেনে চলতে হবে।

গবেষক অবশ্যই এই কাঠামো ও রীতি সম্পর্কে ব্যপকভাবে পড়াশুনা করবেন এবং তথ্যপঞ্জি, পাদটিকা, সারণীর উপস্থাপন ইত্যাদি সম্পর্কে তার প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট রীতি মেনে চলবেন। এছাড়া শিক্ষার্থী যে কাঠামো ও রীতি ব্যবহার করুক না কেন তাকে সমগ্র থিসিসে একই রীতি-নীতি ব্যবহার করতে হবে। দুর্বল উপস্থাপন ও প্রতিবেদন তৈরীর কারনে একটি ভাল গবেষণাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।

ভাষার ব্যপারে থিসিস লেখক ভাষা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। এছাড়া তার উপদেষ্টা শিক্ষক তাকে সহায়তা করতে পারেন। কোন গবেষণাকে উত্তমভাবে লিখতে হলে নিচের পরামর্শ গুলো মেনে চলতে হবে।
১. থিসিসের লেখা হতে হবে সঠিক। এমনভাবে শব্দ চয়ন করতে হবে যাতে যথাযথ অর্থ প্রকাশ পায়। তবে মনে রাখতে হবে সবোর্ত্তম শব্দ সর্ববৃহৎ শব্দ নয়।

২. ইংরেজী, বাংলা বা যে কোন ভাষায়ই থিসিস লেখা হোক না কেন তা অবশ্যই যথোপযুক্ত মান বা স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী হবে।

৩. ভাষা হবে সহজ, সঠিক ও পাঠকের মনে প্রভাব সৃষ্টিকারী।

৪. যে সকল পদ বা রাশি ব্যবহার করা হবে তা অবশ্যই সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হতে হবে এবং সমগ্র থিসিসে এই সংজ্ঞার সঙ্গতি রক্ষা করতে হবে।

৫. প্রকাশভঙ্গি হবে পান্ডিত্যপূর্ণ, নৈর্বক্তিক, সংক্ষিপ্ত ও সুষ্পষ্ট।

৬. কোন আঞ্চলিক ভাষা, কথোপকথন বা আবেগ উচ্ছ্বাস থিসিসের অন্তভূর্ক্ত হতে পারবে না।

৭. কোন ব্যক্তি সর্বনাম যেমন- আমি, তুমি, তোমরা, আমরা, আমাকে, আমার আমাদের, তোমার, তোমাদের, আমাদিগকে ইত্যাদি একমাত্র উদ্ধৃতি ব্যতীত থিসিসের কোথাও ব্যবহার করা যায় না। তৃতীয় পুরুষ এ থিসিস লিখতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে ‘গবেষক’, ‘প্রতিবেদক’ বা ‘গ্রন্থাগার’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করতে হবে।

৮. যুক্তিযুক্তভাবে ধারণার বিকাশ ঘটাতে হবে এবং পদ্ধতিগতভাবে তা উপস্থাপন করতে হবে। কোন জ্ঞানগম্ভীর ধারণাকেও সহজ ভাষায় এবং ছোট বাক্যে প্রকাশ করতে হবে।

৯. সাধারণ অতীত কাল ব্যবহার করে থিসিস লিখতে হবে। বর্তমান কালের বা ভবিষ্যৎকালের কোন প্রসঙ্গ টানলে সেখানে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাল ব্যবহার করা যাবে।

১০. সমগ্র থিসিসের একই রকম বানানরীতি, সংক্ষিপ্তকরণনীতি, ইংরেজি ভাষায় লিখিত থিসিসের ক্ষেত্রে বড় হাতের অক্ষরের ব্যবহার এবং বাংলার ক্ষেত্রে শব্দের নিচে দাগ দেয়া, যতি চিহ্ন( Punctuation), শব্দের মিল ও বিভক্তি ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য যে কোন আদর্শ বা প্রমিত অভিধান অনুসরণ করা যেতে পারে। যে সকল ক্ষেত্রে একাধিক বানান প্রচলিত আছে সে সকল ক্ষেত্রে যে কোন একটি ব্যবহার করতে হবে, দু’টোকে একই থিসিসে ব্যবহার করা যাবে না।

১১. কোন কিছু সম্পর্কে ঢালাও মন্তব্য করা যাবে না, কোন কিছু বাড়িয়ে বলা যাবে না, গবেষণায় যা পাওয়া যাবে তা সততার সাথে যুক্তিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

১২. যে কোন উদ্ধৃতি সঠিকভাবে উদ্ধৃত করতে হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হবে।

১৩. থিসিসের কাঠামো, বিষয়বস্তু, সংগঠন ও উপস্থাপন প্রতিটিন ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।

১৪. যত্নের সাথে টাইপ করতে হবে এবং সতর্কতার সাতে প্রুপ দেখতে হবে যাতে কোন ভুল না থাকে।

তথ্যসূত্রঃ
১. ডঃ শাহজাহান তপন – থিসিস ও আ্যাসাইনমেন্ট লিখন
২. আলিম আল আইয়ুব আহমেদ – শিক্ষায় গবেষণা পদ্ধতি
৩. আহসান হাবিব – কর্মসহায়ক গবেষণা
৪. মোঃ গোলাম ফারুক – কর্মসহায়ক গবেষণা
৫. জিনাত জামান – শিক্ষা গবেষণা ও কৌশল