সৈয়দ মাহবুব হাসান আমিরী

আইসিটি বিভাগ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ

পরিবেশ

গ্রীণ হাউজ এর ক্ষতিকর দিক ও পরিত্রাণের উপায়

আমাদের পৃথিবীর উপরে যেখানে বায়ুর স্তর সেখানে মেঘের মেলা। সেখানেই আছে গ্যাসের একটি স্তর। এ গ্যাসের নাম ওজোন। এ স্তরটির নাম ওজোন স্তর। এর বেষ্টনী দিয়ে সমগ্র পৃথিবী-কে বেষ্টন করা হয়েছে। এটি খুব পাতলা আবরণের একটি স্তর। এর কাজ হল, সুর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্নিকে প্রতিহত করা। এ রশ্নি যেন মানুষ বা প্রাণী জগতের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য এ গ্যাস স্তরটি তাকে প্রতিরোধ করে থাকে। আল্ট্রাভায়োলেট রশ্নি প্রাণী জগত, গাছ পালা, শষ্যক্ষেত্র ইত্যাদির জন্য ক্ষতিকর। আর এ ওজোন স্তর আছে বলেই পৃথিবী শষ্য শ্যামল হয়ে উঠেছে। এটি না থাকলে সুর্যের ক্ষতিকর রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পতিত হয়ে পৃথিবীর সব কিছুর প্রাণ বিনষ্ট করে দিত।ইদানিং পৃথিবীতে মোটর গাড়ী, শিল্প কারখানা হতে নির্গত ধোয়া থেকে মাত্রাতিরিক্ত কার্বনডাইঅক্সাইড গ্যাসের নির্গমন বেড়ে গেছে। এটি ধীরে ধীরে ওজোন স্তরকে ক্ষয় করে ফেলছে। ওজোন স্তর দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে পৃথিবীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে একদিকে পাহাড় চুরায় অবস্থিত বরফ গলে নদী নালায় বন্যা নেমে আসছে। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। অপরদিকে সবুজ বন বনানী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অধিকহারে ঘুর্ণিঝড়, হ্যারিকেন সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থার আরো অবনতি হলে মেরু প্রদেশের বরফ গলতে শুরু করবে। ভয়ংকর প্লাবন সৃষ্টি হবে। এমনিভাবে পৃথিবী এক মহা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। ডুবে যাবে অধিকাংশ স্থলভাগ। সাগরে হারিয়ে যাবে নিম্নভূমি। এই প্রক্রিয়ার নামই হল গ্রীণ হাউজ প্রতিক্রিয়া।

গ্রীণ হাউজের ক্ষতিকর দিক: পরিবেশ বিজ্ঞানীদের নানা গবেষণায় দেখা যায়, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে জমে থাকা বরফ গলতে শুরু করবে (যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে)। বরফ গলে ও পানির সম্প্রসারণশীল ধর্মের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। এর ফলে পৃথিবীর দ্বীপসমূহ ও উপকূলবর্তী অঞ্চলসমূহ সমূদ্রগর্ভে তলিয়ে যাবে। এছাড়া সমূদ্রের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বৃষ্টিপাত, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদির সংখ্যা ও ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাবে। সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে লবণাক্ত পানি উপকূলের অনেক গভীরে প্রবেশ করে উপকূলীয় জীববৈচিত্র, বনাঞ্চল, সুপেয় পানি, মৎস্য সম্পদ ও কৃষি ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ও কার্বন-মনো-অক্সাইড নির্গমন: শিল্প বিপ্লবের পর গত দু’শো বছরে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন-মনো-অক্সাইড ও অন্যান্য উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্যাসের পরিমাণ বাড়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমে উষ্ণ থেকে উষ্ণ হয়ে উঠছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিগত ৭৫০,০০০ বছরের মধ্যে কার্ডন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ এখন সবচেয়ে বেশি এবং বিজ্ঞানীদের কাছে এটা স্পষ্ট যে মানবসৃষ্ট প্রভাব প্রাকৃতিক-শ্লথ ও দীর্ঘকালীন- গরম ও ঠান্ডা হবার প্রক্রিয়াকে বিপদজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রীনহাউজ গ্যাস-এর মধ্যে শুধু কার্বন-ডাই-অক্সাইডই পড়ে না, এর মধ্যে আছে মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। এ সমস্ত গ্যাস সৌর তাপ, যা কিনা পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয়ে অবলোহিত তরঙ্গে মহাশূণ্যে ফিরে যেত, তাকে শোষণ করে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে গবেষকরা ধীরে ধীরে পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসে হঠাৎ উষ্ণায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক মিথেনের প্রভাব সম্পর্কেও অবহিত হচ্ছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন: জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষদ্বাণী বিভিন্ন কম্পিউটার সিমুলেশানে সাহায্যে করা হয়ে থাকে; বিজ্ঞানীদের মতে, এসব কার্যক্রম দিন দিন অনেক উন্নত হচ্ছে। এসব বৈজ্ঞানিক কম্পিউটার সিমুলেশানগুলোতে দেখানো হচ্ছে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন মাসগুলোয় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং শীতকালীন সময়ে কমে যাবে। তুলনামূলকভাবে শীতের সময় তাপমাত্রা বেশি বাড়বে। এই দু’টি কারণে গ্রীষ্মের সময় যেমন বন্যার প্রকোপ বাড়বে, তেমনই শীতের সময় খরার সম্ভাব্যতা বৃদ্ধি পাবে। বর্ষার সময় উচ্চ তাপমাত্রা ও অধিক পানির সমন্বয় ভেক্টর বাহিত নানা ধরণের রোগ, যেমন কলেরা ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের প্রকোপ ব্যাপকভাবে ছড়াবে। এসবের পাশাপাশি বাংলাদেশের জীববৈচিত্রেরও ক্ষতিসাধন হবে।

কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তন: জলবায়ুর সঙ্গে কৃষির নিবিড় সম্পর্ক। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি ব্যবস্থারও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। সাম্প্রতিক পরিবেশ বিজ্ঞানীদের এক সমীক্ষায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়া দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করবে। তীব্র বন্যা ও সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, কৃষি জমিতে লবনাক্ত পানি ঢুকে প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থার মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করবে। তাই এখন থেকে কৃষির বিকল্প ব্যবস্থার অনুসন্ধান করতে হবে। কৃষিভিত্তিক জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে চাই ব্যাপক উদ্যোগ ও গবেষণা এখনই। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে তা আগেভাগে বিশ্লেষণ করে বিকল্প কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, কৃষি গবেষণায় পর্যাপ্ত আধুনিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বিকল্প-কৃষি ব্যবস্থা একেবারে তৃণমূল কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে সরকারের উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষি ক্ষেত্রে যেসব ক্ষুদ্র অভিযোজন (খাপ-খাইয়ে) ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে ভাল ফলাফল নিয়ে এসেছে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে অপরাপর একই ধরনের প্রতিবেশে সেসব ছড়িয়ে দিতে হবে। এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচার ও প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা নিতে হবে। লবণ ও খরা-সহিষ্ণু উন্নত প্রজাতের ধান উদ্ভাবনে ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নিতে হবে। বিশেষ করে কৃষকদের নিকট দ্রুত আবহাওয়ার পূর্বাভাস পৌঁছানো যায় সে কৌশল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে। কৃষকদের মাঝে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকহারে বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। একজন কৃষক যদি তথ্যপ্রযুক্তির বদৌলতে উন্নত বিশ্বের কৃষি ব্যবস্থার কলাকৌশল জানতে পারে তাহলে তা আমাদের কৃষি ব্যবস্থায় কাজে লাগাতে পারবে। কৃষিতে পরিবেশবান্ধব সার ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে।

নদীগুলোর পথ পরিবর্তন: স্বাধীনতাপরিবর্তী দীর্ঘ এই সময়ে বাংলাদেশের ল্যান্ডস্কেপ প্রায় বদলে গেছে। নদীর জায়গায় নদী নেই, জলাশয়ের জায়গায় জলাশয় নেই, পাহাড়ের জায়গায় পাহাড় নেই, বনভ’মির জায়গায় বনভূমি নেই, একসময়ের সবুজ শস্য ক্ষেত এখন প্রায় বিরান। এই যে, ভূমির অপব্যবহার- এ জন্য দায়ী আমরা। আমাদেরকেই এর হিসাব দিতে হবে কড়ায় গন্ডায়। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ- আজ নদী পথগুলো হারিয়ে গেছে, অথচ নৌপথ সম্প্রসারন করা উচিত ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কমিউনিকেশন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে চালু করতে পারলে পলিউশন অনেকাংশে কমবে। নদী বাঁচানো প্রয়োজন বাংলাদেশ বাঁচানোর স্বার্থে। নদীকে ঘিরেই বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। যেভাবে নদী ভরাট হচ্ছে, দূষিত হচ্ছে, নদী দখল হচ্ছে- এভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চলতে থাকলে নদীশূণ্য বাংলাদেশে পরিণত হবে দেশ। নদীগুলোকে ড্রেজিং করে নদীর দু’পাড় উচু করা, নদীর পাড়ে বৃক্ষরোপন করা, নৌপথ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন খুবই জরুরি।

অধিক তাপমাত্রা : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেসব প্রভাব পড়বে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কৃষি। বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভর দেশ। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে ব-দ্বীপের কৃষি ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন ঘটবে। একশ বছরে সারা পৃথিবীব্যাপী তাপমাত্রা প্রায় গড়ে ০.৭৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়েছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া এ পরিমাণ কম মনে হলেও এটা ভাবা উচিত যে তাপমাত্রা বাড়ার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তাপমাত্রার উত্থান-পতন অনেক বেশি। বর্তমান শতাব্দীতে তাপমাত্রা ১.১ থেকে ৬.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়তে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। জলবায়ুর কম্পিউটার সিমুলেশান আগামী ৩০ বছরে বাংলাদেশে তাপমাত্রা বাড়ার পরিমাণ দেখাচ্ছে শীতে ১.১৭ ও গ্রীষ্মে ০.৫৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস, কিন্তু এই শতাব্দীর শেষে সিমুলেশানের আভাস হচ্ছে যে শীতের সময় ৫.৪৪ ও গ্রীষ্মের সময় ৩.১৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়বে। একই সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ শীতের সময় শতকরা ১৬ ভাগ কমবে ও গ্রীষ্মকালে শতকরা ২৬ ভাগ বাড়বে। গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত বেড়ে যাবার মূল কারণ হচ্ছে সমূদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি সমূদ্র থেকে বেশি পরিমাণ জলীয় বাষ্প দক্ষিণ থেকে উত্তরে আসবে এবং মৌসুমী বায়ু চালিত এই বর্ষা আগমনে সময়ের হেরফের হবে। অন্যদিকে শীতের সময় কম বৃষ্টি ও হিমবাহ-জনিত পানির অভাবে এবং তুলনামূলকভাবে অধিক তাপমাত্রার কারণে ব্যাপক খরা দেখা দেবে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট শীতের সময়কার অন্যতম রবিশস্য বোরো ধানের বিভিন্ন হাইব্রিড সৃষ্টি করেছে এসব রবিশস্য শীত সহনশীল। স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন জাতের ধানের প্রবর্তন করতে হবে যা কিনা শুধু উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীলই হবে না, সেই ধানের পানির দাবি অনেক কম হতে হবে। অন্যদিকে বর্ষার পানি নেমে গেলে যে আমন ধানের চারা লাগানো হতো, বর্ষার পরের সময়ের পরিবর্তনকে মনে রেখে নতুন জাতের আমনের প্রবর্তন করতে হবে।

লবণাক্ততা ও আমাদের জীববৈচিত্র্য: সমূদ্রের উচ্চতা বাড়ার পাশাপাশি সুন্দরবন অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমাণ আরও বাড়বে এটা এখনই দেখা যাচ্ছে। শীতের সময় উত্তর থেকে মিঠাপানি আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেলে এই লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাবে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রচন্ডতা বেড়ে গেলে সমূদ্রের লবণ পানি খুব উঁচু জোয়ারের সঙ্গে মিশে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে। যার ফলে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ প্রকৃতির করুণ মৃত্যু ঘটবে এবং সমতল ভূমির চাষযোগ্য জমির ফলন শক্তি হারাবে। সুন্দরবনের ৬০% ভাগ অঞ্চলের লবণাক্ততা বছরের দেড় মাস প্রতি ১ হাজার ২০ ভাগের উপরে থাকে (মিঠাপানির লবণাক্ততা প্রতি ১ হাজারে ০.৫ ভাগের নিচে ও সমুদ্রের লবণাক্ততা ৩০ ভাগের উপর)। উত্তরে ফারাক্কার মতো মনুষ্যকৃত বাঁধ, ভূত্বকের টেকটনিক সঞ্চালন, চিংড়ি চাষের জন্য লবণাক্ত পুকুর সৃষ্টি ইত্যাদি এই অবস্থাকে আরও চরম করে তুলবে। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতি সুন্দরবনের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করবে।

সমতম ভূমির অবনমন: গবেষকরা মনে করছেন বাংলাদেশের বিশাল অঞ্চল বছরে ১ থেকে ৫ মিলিমিটার হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। এ অবনমন-এর জন্যই মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশের উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঠিকভাবে যাচাই ও ভূমির সার্বিক ও স্থানীয় অবনমন নির্ণয়ের জন্য অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। উদাহরণ হিসাবে গবেষকগণ মনে করেন, কক্সবাজার উপকূলে সমূদ্রের উচ্চতা বাড়ার হার বছরে প্রায় ৮ মিলিমিটার পাওয়া যায়, অথচ কক্সবাজার অঞ্চল দ্রুত সমূদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বাড়লে বাংলাদেশের একটা বিশাল অংশের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে ফলে দেশের একটা বিরাট জনগোষ্ঠী বাস্তুহারা হতে পারে। বিজ্ঞানীরা মোটামুটি একটি সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন যে বায়ুম-লে উষ্ণতা বৃদ্ধিকারক গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ আমরা দ্রুত কমাতে পারলেও এই শতাব্দীতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার হ্রাস পাবে না। এই বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে আমাদের প্রাথমিক করণীয়সমূহের মধ্যে থাকবে বাংলাদেশের উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের গতিশীলতা নির্ধারণ করা, বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার অনুসন্ধান করা যা দিয়ে উপকূলের স্থিতাবস্থা কিছুটা হলেও বজায় রাখা সম্ভব হয় উপকূলের গতিশীলতা অনুযায়ী উপযুক্ত জনসংখ্যা নীতি নির্ধারণ করা।

এদিকে সমূদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে এভাবে উচ্চতা বৃদ্ধি চলতে থাকলে বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। আজ থেকে প্রায় ৭০০০ থেকে ৮০০০ বছর আগে সমূদ্রপৃষ্ঠের দ্রুত উচ্চতা যা বছরে ১০ মিলিমিটারের মতো বৃদ্ধির সমাপ্তি ঘটে। তার পরে সমুদ্রপৃষ্ঠ গড়ে বছরে ১ মিলিমিটার বা তার থেকে কম করে বাড়তে থাকে যার ফলে গত ৭হাজার বছর ধরে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ছয় মিটার বেড়েছে। ধরা হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠ এখন বছরে ২ থেকে ৩ মিলিমিটার করে বাড়ছে। সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিমাণ নির্ধারণ করা সহজ কোন কাজ নয়, বিশেষ করে যখন গড় সমুদ্র উচ্চতা কোন গোলাকৃতি তল দিয়ে প্রকাশ করা যায় না। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা পৃথিবীর নানা স্থানে নানা রকমের যেমন বঙ্গোপসাগরের গড় উচ্চতা অন্যান্য সাগর থেকে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার বেশি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাপতে হলে দীর্ঘমেয়াদী জোয়ারভাটার তথ্য সংগ্রহ এবং উপগ্রহ থেকে রাডার অল্টিমেট্রির সাহায্যে প্রাপ্ত তথ্যের যথাযথ গাণিতিক বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করতে হবে। যেহেতু উচ্চতা বৃদ্ধির হার বছরে মাত্র কয়েক মিলিমিটার এবং সমুদ্র উচ্চতার উপর বায়ুপ্রবাহ, লবণাক্ততা, চন্দ্র ও সূর্যজনিত জোয়ারের প্রভাব তার থেকে অনেক বেশি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাপা সমবসয়ই একটা দূরূহ বিষয়।

বিজ্ঞানীদের কয়েকটি গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের উপকূলে এই উচ্চতা বৃদ্ধির হার বছরে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে যা বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বৃদ্ধির হারের চাইতে অনেক বেশি। বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে ও আরব সাগরের সীমানায় অবস্থিত বিশাখাপট্টম, মাদ্রাজ, মুম্বাই, করাচি ও ইয়েমেনের এডেনে দীর্ঘমেয়াদী (প্রায় ৪০ বছরের) জোয়ার ভাটার উপাত্ত উচ্চতা বৃদ্ধির হার বছরে ২ মিলিমিটারের কম বলে দেখানো হয়েছে গবেষণায়। অন্যদিকে জোয়ারের তথ্য পশ্চিমবঙ্গের হুগলী নদীর মোহনায় ডায়মন্ড হারবারে উচ্চতা বাড়ার হার দেখানো হয়েছে ৬ মিলিমিটারের কাছাকাছি। এ সব গবেষণা থেকে বলা যায় যে বাংলাদেশের উপকূলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির হার অন্য নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে বেশি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী মূলতঃ বাংলাদেশের সমতলভাগের জমির ক্রমাগত অবনমন।

ভূমির অবনমনের কারণ: বাংলাদেশের ভূমির অবনমনের কারণ হিসাবে গবেষকগণ মনে করেন, ১. ভূতাত্ত্বিক যে টেকটনিক প্লেটের উপরে বাংলাদেশের অবস্থান সে টেকটনিক প্লেট ক্রমাগতভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে এবং ২. ভূমির উপরে পলি জমা হয়ে ভূমির গভীরের মাটি থেকে পানি বের করে মাটিকে ঘনীভূত করে তাকে নামিয়ে দিচ্ছে। এছাড়াও পানি ও কৃষিকাজের জন্য নদী ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের জন্য ধীরে ধীরে উপরিভাগের মাটি নিচে নেমে যাচ্ছে। অবনমন ও পলি পড়ার সাম্যাবস্থার কারণই বাংলাদেশের ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব বেশি উঁচু হতে পারেনি এবং নিকট ভবিষ্যতেও পারবে না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন মানবসৃষ্ট প্রক্রিয়া বাংলাদেশের প্লাবন অববাহিকায় এই প্রাকৃতিক পলি পড়ার প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ভারত, নেপাল ও চীন দেশে নির্মিত বাঁধসমূহ যেমন গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীগুলোতে পানি ও পলির দক্ষিণমুখী যাত্রা ব্যাহত করছে, তেমনি বাংলাদেশে বন্যার বিরুদ্ধে নির্মিত বিভিন্ন বেড়িবাঁধের ভেতরের জমিতে পলি পড়তে দিচ্ছে না। এর ফলে একদিকে নদীর তল যেমন উঁচু হচ্ছে তেমনি নদী হারাচ্ছে তার নাব্যতা।

খাদ্য নিরাপত্তা : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে। কৃষি জমির সঙ্কট, জলবায়ুতাড়িত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টিসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পেতে থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে মাথা ব্যাথার কারণ রয়েছে। একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে অধিক মনযোগী হতে হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রয়োজনমতো খাদ্য সময়মতো আমদানী করতে হবে। দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রসারিত করে এবং দেশীয় আপদকালীন খাদ্য ভান্ডার সুসংহত করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

এডাপ্টেশন বা অভিযোজন: ক্লাইমেট চেঞ্জ বা জলবায়ু পরিবর্তন যেমন অভিশাপ হয়ে আসছে এ কথাটি সত্যি যে, এ বিষয়ে সচেতনতা ক্রমশঃ বাড়ছে। ইতোমধ্যে আমরা জানি, কোন কোন খাতে কি ব্যাপ্তিতে ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে পারে। কোন একটি দেশ জলবায়ু পরিবর্তন বন্ধ করতে পারবে না, কেননা তা নির্ভর করে সারাবিশ্ব থেকে বায়ুম-লে ছড়িয়ে পড়া গ্রীনহাউজ গ্যাসের উপর। যদিও বিশ্বব্যাপী গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমনের মাত্রা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তা ফলপ্রসূ হয়নি। আর সেদিকে অগ্রগতি কিছু হলেও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যে পরিমাণ গ্রীনহাউস গ্যাস বায়ুম-লে বর্তমানে মজুদ হয়েছে তার ফলে বর্তমান শতকে জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতা ক্রমশঃ পরিবর্তনের তীব্রতা ক্রমশঃ বাড়তেই থাকবে। সুতরাং গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন রোধের চেষ্টার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি। তীব্র অভিঘাত নেমে আসার আগেই নতুন নতুন উপায়ে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনার ব্যবস্থাদি গ্রহণ করতে হবে। যেসব প্রক্রিয়ায় তা করা যায় সেসব প্রক্রিয়াকে সংক্ষেপে অভিযোজন বলা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ একটি দুর্যোগ-আক্রান্ত দেশ, দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বিক জ্ঞান অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। জলবায়ু পরিবর্তন যেহেতু দুর্যোগের মাত্রাকে বাড়িয়ে তুলবে, দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসনের পাশাপাশি জোর দিতে হবে দুর্যোগ-ঝুঁকি মোকাবিলার সার্বিক প্রস্তুতিতে। তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, বিশেষ করে কৃষকদের মাঝে প্রশিক্ষণের বিষয়টি খুবই জরুরি। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে তাদের নিজস্ব দুর্যোগ প্রতিরোধের সুযোগ থাকলে সেখানে সহায়তা বাড়াতে হবে। দুর্যোগ প্রতিরোধে তৃণমূল মানুষের স্ব-উদ্যোগ চিহ্নিত করে সেখানে সিমুলেশনের সহায়তা বাড়াতে হবে। বন্যা মোকাবেলায় প্রাক-পূর্বাভাস প্রদানে আরও ব্যাপক উন্নতির সুযোগ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কম্পিউটার মডেলের ব্যবহার ঘটিয়ে আগাম সতর্ক সঙ্কেতের সময়কাল বাড়ালে পারলে এবং তা যথাস্থানে সহজ ভাষায় গণমানুষের খুব কাছে পৌঁছাতে হবে যাতে তৃণমূলের জনগণ ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনতে পারে।

পলিমাটি বিনষ্ট: পরিবেশ বিজ্ঞানীদের কিছু গবেষণার ফল অনুযায়ী গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীগুলো বছরে ১ বিলিয়ন টন পলি বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এই পলির আনুমানিক ৫০% প্লাবন অববাহিকায় ও ন দীর তলদেশে ও ৫০% উপকূল অঞ্চলে চলে যায়। তবে এই হিসাবটা নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। কিছু গবেষকদের মতে প্লাবন অববাহিকা, উপকূল-নিকটবর্তী সমূদ্র তলদেশ ও অনেক দক্ষিণে গভীর সমূদ্র সমান সমান ভাবে (৩৩%) এই পলিমাটি ভাগ করে নেয়। অনেকের মতে উপকূলে চলে যাওয়া পলির কিছু অংশ সরাসরি পানির নিচে পড়ে নতুন জমি সৃষ্টি করে ও কিছু অংশ আবার জোয়ারের মাধ্যমে উপকূলে ফিরে এসে নতুন জমিতে যোগ দেয়। কিন্তু উপকূলে চলে যাওয়া পলির একটা বিশাল অংশ সুন্দরবনের ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের অবস্থিত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডস নামক গর্তের মাধ্যমে গভীর সমূদ্রে চলে যায়। অনেকে গভীর সমূদ্রে হারিয়ে যাওয়া পলিমাটিকে আটকে নতুন জমি সৃষ্টির স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু বিদ্যমান প্রযুক্তি এই মাটিকে আটকাতে পারবে কিনা তা অনেক গবেষনার বিষয়।

পলি ভরণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে মেঘনা মোহনায় ও মোহনার দক্ষিণে নতুন জমি সৃষ্টির আশা দেখিয়েছে। অন্যদিকে সুন্দরবনের দক্ষিণাঞ্চলের জমি হয়তো ক্ষয় হচ্ছে। সুন্দরবনের বদ্বীপ উত্তর থেকে মনুষ্যজনিত কারণে পানি ও পলিমাটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে কিছু টেকটনিক কারণে গত কয়েক শত বছর ধরে দক্ষিণ বঙ্গ পূর্ব দিকে কাত হবার ফলে মূল পানির ধারা ধীরে ধীরে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে সরে গেছে। এর ফলে সুন্দরবনের দক্ষিণে নতুন জমি সৃষ্টি হচ্ছে না এই দু’টি কারণেই বিশেষ করে (মনুষ্যজনিত ও প্রাকৃতিক) যে প্লাবন অববাহিকা পূর্বে মেঘনা উত্তরে পদ্মা ও পশ্চিমে ভাগিরথী নদীর মাঝে অবস্থিত তা ধীরে ধীরে এক মৃত বদ্বীপে পরিণত হচ্ছে। তাই ভবিষ্যত সমূদ্র উচ্চতা বৃদ্ধির ফলাফল গণনা করতে বাংরাদেশের উপকূলের বিভিন্ন অংশের গতিশীলতাকে মনে রাখতে হবে।

সুন্দরবনের জন্যে হয়তো সমূদ্র থেকে জোয়ারের মাধ্যমে পুনরাগত পলিকে ব্যবহার করার জন্য কোন চিন্তা ভাবনা করা যেতে পারে, কিন্তু যে কোন কারিগরী সমাধান যেন আগেকার অকৃতকার্য প্রজেক্ট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ খুলনা যশোর ড্রেনেজ রিহ্যাবিলেটশন প্রজেক্টের ফলে অনেকের মতে দক্ষিণ বঙ্গের কিছু নদীর মৃত্যু হয়েছে, অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হযেছে। অন্যদিকে কিছু প্রজেক্টের কার্যকারিতা সুষ্পষ্ট- যেমন নতুন জেগে ওঠা জমিতে ম্যাংগ্রোভ গাছ লাগিয়ে সেই জমিকে স্থিত করার এবং পলি পড়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টা দুঃখের বিষয় অনেক জায়গায় নতুন ম্যাগ্রোভ কেটে বসতি হচ্ছে অথবা চিংড়ি চাষের জন্য লবণাক্ত পুকুর বানান হচ্ছে। তাই সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে যে বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী তার বিরুদ্ধে কিছু সূচিন্তিত ও ত্বরিত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই।

মারাত্মক ঝুঁকিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি যেমন মানুষকে প্রভাবিত করবে তেমনি আনুষঙ্গিক পানি, বায়ু ও খাদ্যের গুণ ও পরিমাণ, ইকোলজি, চাষাবাস, অর্থনীতির পরিবর্তনের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্যের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। যে সব সংক্রামক ব্যাধি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ছড়াবে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, পীতজ্বর, কলেরা ও এনসেফালাইটিস। উষ্ণতা বৃদ্ধিতে পানিতে শ্যাওলার পরিমাণ বাড়তে থাকবে যার ফলে কলেরা দেখা দেবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, গরম ও জলীয় আবহাওয়া সালমোনেলা জাতীয় জীবাণুর সংখ্যা বাড়াবে যা টাইফয়েড রোগের বিস্তারে সাহায্য করবে। অন্যদিকে নগর ও মহানগরীগুলোতে অধিক পরিমাণে গাড়ির ধোঁয়া ও অ-প্রজ্জ্বলিত হাইড্রোকার্বন কণা এবং রান্নার জ্বালানি হিসাবে কয়লার সরাসরি ব্যবহার, যা দক্ষিণ এশিয়ার আকাশকে কালো কার্বন কণা দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্র-ঘটিত এবং অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধিকে অনেক গুণ বাড়িয়ে তুলবে। জলবায়ু পরিবর্তনে জমিচ্যুত শরণার্থীরা স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত নানাবিধ বিপদের সম্মুখীন হতে পারে যা হবে দেশের জনসংখ্যার উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

পরিবেশ বিপর্যয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে আগামীর বাংলাদেশ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে এ কথা দ্রুব সত্য। জাপানীজরা ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করে কিন্তু পরিবেশের বিষয়টি সবার আগে চিন্তা করে। জাপানিজরা মনে করে জাপান একটি ঘনবসতিপূর্ণ ছোট জায়গা। তাই প্রতিটি জায়গায় জাপানীজরা নিরাপত্তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ দূষণের ব্যাপারে খুবই সতর্ক। কারণ জাপানীজরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, আমাদের পরিবেশ আমাদেরই রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে না হলে আমাদের সামনে জন্য অপেক্ষা করছে মহাবিপদ।’ এটা শুধু তাদের মুখের কথা নয়, পরিবেশ রক্ষায় সব ধরণের রীতিনীতি তৈরি ও তার প্রয়োগ ১০০% মেনেও চলে। তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাদের মতো দেশের জন্য অবশ্যই অনুকরণীয়। পক্ষান্তরে যদি বলা হয় আমাদের দেশের অবস্থা কি? বুড়িগঙ্গা নদীর অবস্থা? কেউ কি খবর রাখে?

নগরের আগ্রাসন: বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেও কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। এদেশের মানুষ বেশিরভাগ কৃষিকর্মের উপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যায় কৃষি ব্যাপকভঅবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অনেক গুণ বেড়ে যাবে, ফলে কৃষি পর্যুদস্ত হলে তা দারিদ্র্যের বিস্তৃতি ঘটাতে পারে। আশংকা করা হচ্ছে, কৃষিতে যেসব মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে তাদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার কারণে নতুন কর্মসংস্থানের বদলে জলবায়ু-তাড়িত বেকারত্ব এবং নগরমুখী অভিবাসন ব্যাপক মাত্রায় দেখা দিতে পারে। আবার বাংলাদেশে স্বাধীনতাপরিবর্তী সময়ে দ্রুত নগরের আগ্রাসন শুরু হয়েছে। এ আগ্রাসন রোধ করতে না পারলে- আগামীতে পুরো দেশটাই হয়ে পড়বে শহরে পরিণত হবে। তাই এখনই সময় নগর ও গ্রাম যেন পরিবেশ উপযোগী করে গড়ে তোলার। কারণ নগরের আগ্রাসন পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।

কার্বন ট্রেডিং: বায়ুম-লে গ্রীণ হাউস গ্যাস নির্গমনের হার অব্যাহত থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পায়ন-পূর্ব সময়ের চেয়ে ১.৪ থেকে ১.৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিণামে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে প্রায় ১ মিটার। ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র, বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল ডুবে যাবে, কোটি কোটি মানুষ পরিবেশগত উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে; ভয়াবহ বন্যা ও খরা ঘটবে, ফসলের উৎপাদন কমবে, অপ্রতিরোধ্য রোগ বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব বাড়বে। এতে উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশসমূহের ঝুঁকিপূর্ণতা বাড়বে বহুগুণে, কারণ এ অবস্থা মোকাবেলা করার প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও কারিগরী সামর্থ উন্নয়নশীল দেশগুলোর নেই। অথচ বিশ্বকে এ ধরণের মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণতার দিকে ঠেলে দেয়ার পিছনে উন্নত দেশের ভ’মিকাই নেই। পৃথিবীতে মোট যত কার্বন ডাই অক্সাইড এর নিঃসরণ ঘটে তার শতকরা ২৫ ভাগ ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, অন্যদিকে এ গ্যাস নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ১ শতাংশেরও কম। গ্রীণ হাউস গ্যাস নির্গমনজনিত পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবেলা করতে ১৯৮০ দশকে বিশ্বের জলবায়ুবিজ্ঞানীদের উদ্যোগে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারই ফলশ্রুতিতে ১৯৯২ সালে জাতিসংঘ পরিবেশ ও উন্নয়ন সংক্রান্ত ইউএনসিইডি সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘ চুক্তি কাঠামো এফসিসিসি গৃহিত হয়। এ সম্মেলনে এটা মেনে নেয়া হয় যে, গ্রীণ হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সব দেশেরই সার্বজনীন কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব রয়েছে এবং যেহেতু শিল্পোন্নত দেশগুলো বিপুল পরিমাণে এ গ্যাসসমূহের নিঃসরণ ঘটিয়েছে এবং এখনও ঘটাচ্ছে সুতরাং তাদেরই প্রথমে এর নিঃসরণ কমিনতে আনতে হবে। কিন্তু গ্রীণ হাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে কোন সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে শিল্পোন্নত দেশগুলো অনীহা প্রকাশ করে। তদুপরি এফসিসিসি সম্মেলনে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে তাদের নিজ নিজ জাতীয় নীতি নির্ধারণের কথা বলা হয়, যাতে গ্রীণ হাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্রা ২০১২ সালেরমধ্যে অন্তত ১৯৯৭ সালের পর্যায়ে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। ১৯৯২ সালের আলোচনা অনুসারে শিল্পোন্নত দেশগুলোর নির্গমন কমানোর প্রতিশ্রুতি পর্যালোচনার জন্য ১৯৯৭ সালে জাপানের কিয়োটায় এফসিসিসি’র তৃতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিল্পোন্নত দেশগুলো ২০০৮ সাল হতে ২০১২ সালের মধ্যে গ্রীণ হাউস গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ ১৯৯০ সালের তুলনায় ৫.২% কমাতে সম্মত হয়। কিয়োটা প্রটোকল অনুসারে শিল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রীণ হাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সহযোগিতার কিছু নমনীয় কৌশল অনুমোদন করা হয়; এর মধ্যে একটি হলো- শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রকল্পভিত্তিক গ্রীণ হাউস গ্যাস নিঃসরণ বা ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম। এর অর্থ হলো শিল্পোন্নত দেশগুলো নিজ দেশে গ্রীণ হাউস গ্যাসের নিঃসরণ না কমিয়েও কিছুটা ছাড় পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশের পরিবেশ বান্ধব কোন প্রকল্প বিনিয়োগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী দেশের গ্রীণ হাউস গ্যাসের নির্গমন কমিয়েচে বলে গণ্য করা হবে।

প্লান্ট সায়েন্স বা বৃক্ষবিজ্ঞান: কার্বন ডাই অক্সাইড যেমন ক্লাইমেট চেঞ্জের জন্য দায়ী তেমনি কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসকে ধরে রাখার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। এই ব্যাপারে ভ’মিকা রাখতে পারে প্লান্ট সায়েন্স বা বৃক্ষবিজ্ঞান। কৃষিকে বাদ দিয়ে অন্য কোন পথে চলার কোন সুযোগ নেই। আর কৃষি ব্যবস্থাকে বদলাতে প্লান্ট সায়েন্স বা বৃক্ষ বিজ্ঞানকে কাজে লাগানোটা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। আমাদের এখানে অগ্রণী ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। আমাদের জাতীয় স্বার্থে কৃষিব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার। হোক সেটা অভিযোজন বা মিটিগেশন।

পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা: ভোগ্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে প্রতি বৎসর বনাঞ্চল ধ্বংস করে বসানো হচ্ছে নতুন নতুন শিল্প-কল-কারখানা। এতে করে সার্বিকভাবে বিশ্বের পরিবেশের উপর পড়ছে বিশাল চাপ। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় পৃথিবীর জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারনে প্রাণীজগতের প্রায় ৩৭% প্রজাতি বিলুপ্ত হতে চলছে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি প্রজাতিই বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রাণী জগতের বিভিন্ন প্রজাতির এই বিলুপ্তি বিশ্ব পরিবেশের জন্য বড় এক হুমকি একথা নি:সন্দেহে বলা চলে। এছাড়া শিল্প-কারখানায় বর্জ্যও বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্তির অন্তরায় সৃষ্টি করছে। ইতোমধ্যে বিশ্বময় দুষণমুক্ত বিশুদ্ধ পানির অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে এবং জাতিসংঘ এটিকে পৃথিবীর বড় একটি সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে

ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বৃদ্ধি: ভোগবাদী বিশ্বে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান ক্রমশ: বেড়ে চলছে। নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানে জানা যায় পৃথিবীর মাত্র ২০% জনগোষ্ঠী, যারা উন্নত বিশ্বের বাসিন্দা উৎপাদিত ভোগ্যপণ্যের ৮৬% ব্যবহার করে থাকে। অন্যদিকে গরীবতম ২০% জনগোষ্ঠীর ভোগ্যপণ্যের ব্যবহার মাত্র ১.৩%। নয়াদিল্লীর ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট রিসার্চের সমীক্ষা অনুযায়ী বিশ্বের ৫% ধনী জনগোষ্ঠী বিশ্বের মোট আয়ের ৮৭.৭% অর্জন করে থাকে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীর প্রায় ৮০% জনগোষ্ঠী বাস করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এবং তাদের ব্যবসা বাণিজ্যে অংশগ্রহণের শতকরা হার মাত্র ১৭% । এই হতাশাব্যঞ্জক চিত্র ক্রমশ:ই বাড়ছে এবং এর বড় কার্যকারন ভোগবাদ দর্শনের মাঝেই নিহিত রয়েছে।

বহুজাতিক কোম্পানীগুলো মূলত: বিশ্বের ধনী দেশগুলোরই মালিকাধীন। এই কোম্পানীগুলো বর্তমানে বিশ্বব্যাপি মুক্তবাজার অর্থনীতিকে হাতিয়ার করে একচেটিয়া ব্যবসা করছে। বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর রয়েছে বিশ্বব্যপি বিশাল বাজার এবং এ কারণে এরা যে কোন পণ্য অনেক বেশী পরিমানে উৎপাদন করে থাকে। এতে করে তাদের একক পরিমাপে পণ্যের উৎপাদন খরচ অনেক কম পড়ে। অন্যদিকে তৃতীয় বিশ্বের কোন দেশীয় উৎপাদনকারীর পক্ষে বাজার সীমিত থাকায় পণ্য উৎপাদনের পরিমান বাড়ানো সম্ভব হয় না সঙ্গত কারণেই। এতে করে তাদের পণ্যের একক উৎপাদন খরচ অনেক বেশী পড়ে থাকে। সূতরাং তৃতীয় বিশ্বের দেশী কোম্পানীগুলো পণ্যবাজারে বহুজাতিক কোম্পানীর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। এছাড়া তৃতীয় বিশ্বের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির সুবিধা নেয় এই বহুজাতিক কোম্পানীগুলো, বিশেষত: স্বল্প শুল্কে বাণিজ্য করার সুবিধা। বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর এই একচেটিয়া পণ্য বাজারে অংশগ্রহণের কারণে তাদের অর্জিত মুনাফার হার ক্রমশ: বাড়ছে এবং বিশ্বব্যাপি ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বাড়ছে সেই সাথে।

বিজ্ঞাপণ নিয়ন্ত্রিত ক্রেতাগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি: ভোগবাদী সমাজ ব্যবস্থায় কেনাকাটার ক্ষেত্রে মানুষের স্বাধীনতা সীমিত – সে হয়ে পড়ে বিজ্ঞাপণের ক্রীড়ণক। সত্যিকার প্রয়োজনে নয় বরং মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত শ্রেণীর আওতাভূক্ত অনেকেই আজকাল পণ্য কিনে থাকের বিজ্ঞাপণের লোভনীয় প্ররোচনায়। পণ্যের গুণাগুণ বিচার এখন ব্র্যান্ড নির্ভর। মূলত: বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর ‘ব্র্যান্ড’ সৃষ্টির বড় হাতিয়ার হচ্ছে চটকদার বিজ্ঞাপণ ।

বাংলাদেশ বেশি ক্ষতির সম্মুখীন যেভাবে: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের একটা বিরাট অংশ আগামী শতকে সমূদ্রগর্ভে তলিয়ে যাবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পৃথিবীর গড় সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আগামী শতকের শেষে ০.৬৯ মিটার বেড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। যার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের ২০টি জেলার প্রায় ৩ কোটি মানুষ তাদের বসতবাড়ি থেকে বিতাড়িত হতে পারে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এ ধরণের ঘরছাড়া মানুষগুলোকে বলছেন, ক্লাইমেট রিফিউজি বা জলবায়ু শরণার্থী। এ ধরণের জলবায়ু শরণার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে পরবর্তীতে এদের পুনর্বাসনের জন্য যে কোন সরকারকে পড়তে হবে অর্থনৈতিক সমস্যায়। যা একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা দিবে। বিশ্ব উষ্ণায়ন তথা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও জ্বলোচ্ছ্বাস-এর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক বেড়ে যাবে যা বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে নিয়ে আসবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি জমির পরিমাণ কমে আসবে, এতে খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা সংকটের সৃষ্টি করবে। মৎস্যসম্পদ হারিয়ে যেতে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলে জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়বে তার জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে আমাদের সুন্দরবন, যা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

বুড়িগঙ্গার মৃত্যু: আজকের ঢাকা মহানগরীর গোড়াপত্তনের সঙ্গে বুড়িগঙ্গা নদীটি জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিকভাবে। এ কথা সত্য যে, বুড়িগঙ্গা না হলে ঢাকা মহানগরীর জন্ম হতো না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আজ বুড়িগঙ্গা নদী প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। বুড়িগঙ্গা নদীর মৃত্যুর কারণ অনেক তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিভিন্ন শিল্প-কারখানার বর্জ্য প্রতিনিয়ত বুড়িগঙ্গাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও এসব বর্জ্য পরিশোধন করার কথা রয়েছে কিন্তু কেউ কারও কথা শুনছে না। চামড়া শিল্পের যেসব দূষিত পানি বা তরল পদার্থ তৈরি হয় তা পরিবেশে ছাড়ার আগে পরিশোধন করা হয়। এসব কেমিক্যালের মধ্যে বিভিন্ন লাইম, সোডিয়াম সালফাইড, সালফিউরিক এসিড, সোডিয়াম হাইড্রো সালফাইড, কস্টিক সোডা, আর্সেনিক সালফাইড ও ক্যালসিয়াম হাইড্রো সালফাইড। এসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় প্রথম ধাপে কাচা চামড়াকে জুতা, কাপড় ও রাসায়নিক টিকসই সুন্দর দেখার জন্য ও দীর্ঘদিন টেকার জন্য। এরপরের ধাপে ব্যবহার করা হয় ক্রোমিয়াম জাতীয় কেমিক্যাল যা চামড়াকে নীলাভ-সাদা ও টিকসই করার কাজে ব্যবহার করা হয়। শেষ ধাপে ব্যবহৃত হয় রঙ ও বিভিন্ন কেমিক্যাল এজেন্ট। এসব কেমিক্যাল জনস্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমনি প্রাণী জগতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব দূষিত তরল পদার্থ বুড়িগঙ্গায় মিশে গিয়ে নদীর পানিকে কালো নীলাভ রঙে পরিণত করেছে। যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য আজ মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দূষিত তরল পদার্থ পরিবেশে ছাড়ার আগে অবশ্যই তা পরিশোধন করতে বাধ্য করতে হবে। নগর থাকবে শিল্পায়ন হবে কলকারখানা তৈরি হবে- কিন্তু পরিবেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য।

পরিত্রানের উপায়: জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের মূলত করণীয় বিষয়কে বিশেষজ্ঞরা দুই ভাবে দেখছেন, ক্লাইমেট চেঞ্জ স্টাডি সেলের সমন্বয়ক ড. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রথমত, ক্ষতিকর গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমনের পরিমান কমাতে পারে। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে যে, উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশ খুব সামান্যই অবদান রাখছে বায়ুমন্ডলের মোট গ্রীণ হাউজ গ্যাস নিঃসরনের পরিমানে। তথাপিও, আমরা জলবায়ু পরিবর্তন প্রশসনের অনেক ব্যবস্থা নিয়ে কার্বন ক্রেডিট নিতে পারি। যেমন- শক্তি সাশ্রয়ী বাল্বের ব্যবহার, ইটের ভাটা ও অন্যান্য কল কারখানার ক্ষতিকর কার্বন নির্গমন কমানো, সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ু বিদ্যুৎ এর ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জ্বালানীর সাশ্রয় ও অপব্যবহার কমানো ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত, যে কাজটি এ মুহূর্তে বাংলাদেশকে করা উচিত সেটা হচ্ছে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও জলবায়ুর পরিবর্তনের সাথে আমাদের এডাপ্টটেশন বা অভিযোজন। এই অভিযোজন হবে কাঠামোগত ও কাঠামোবিহীন। কাঠামোগত অভিযোজন এর মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় বাঁধ ও নদীর বাধ এর উচ্চতা বৃদ্ধি, দূর্যোগপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে নতুন নতুন সাইকেুান শেল্টার নির্মাণ করা, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট ভিত্তির উচ্চতা বৃদ্ধি করা। কাঠামোবিহীন অভিযোজন এর মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় বনায়ন যা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এর তীব্রতা কমাবে, লবণাক্ততা সহনশীল ধান উৎপাদন, মৎস্যজীবীদের জন্য বিকল্প জীবনযাত্রার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। এছাড়াও জলবায়ু শরণার্থীদের গৃহায়ন ও জীবনজীবিকার ব্যবস্থার কথাও আমাদেরকে ভাবতে হবে।

নবায়নযোগ্য শক্তি প্রযুক্তি: মহাবিশ্বের একটি মৌলিক অংশ হলো শক্তি। শক্তি ছাড়া এ মহাবিশ্ব অচল। শক্তি আছে বলেই আমরা চলাফেরা করতে পারি, শক্তি আছে বলেই আমরা দেখতে পাই, শুনতে পাই… শক্তি আছে বলেই সুইচ টিপলেই আলো জ্বলে উঠে। অর্থাৎ এই মহাবিশ্বে যে কোনো কাজ করতে গেলেই শক্তি প্রয়োজন। শক্তির কাঁধে চেপেই এগিয়ে চলছে এই পৃথিবী। শক্তি কি ? এক কথায় বলতে গেলে কোনো বস্তুর কাজ করার সামর্থ্যকেই শক্তি বলে। শক্তির প্রভাবেই কোনো বস্তু কাজ করার সামর্থ্য বা ক্ষমতা অর্জন করে।

বিভিন্ন উৎস থেকে শক্তি পাওয়া গেলেও বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, এই পৃথিবীতে সৃষ্ট সব ধরনের শক্তিই আসে সূর্য থেকে। অর্থাৎ সূর্যই হলো শক্তির প্রধান উৎস। উৎস অনুসারে শক্তিকে আমরা প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করতে পারি। ১. অনবায়নযোগ্য শক্তি, ২. নবায়নযোগ্য শক্তি।

নবায়নযোগ্য শক্তি বলতে বোঝায় যেসব শক্তির উৎস নবায়ন করা যাবে অর্থাৎ মজুদ ফুরিয়ে গেলে আবার তৈরি করে নেয়া সম্ভব হবে। সাম্প্রতিক কালে এই নবায়নযোগ্য শক্তি বা বিকল্প শক্তি নিয়ে ব্যাপকভাবে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। এই নবায়নযোগ্য শক্তি এখন আর কেবল বিজ্ঞানী আর প্রকৌশলীদের মাথাব্যাথা নয়, সাধারণ মানুষেরও এ ব্যাপারে আগ্রহ বাড়ছে। এই বিকল্প বা নবায়নযোগ্য শক্তির প্রধান উৎসগুলো হচ্ছে- সৌর শক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, ফুয়েল সেল, বায়োগ্যাস, বায়োডিজেল, টাইডাল এনার্জি, জিওথার্মাল বা ভূ-তাপীয় শক্তি, আবর্জনা থেকে শক্তি, নিউক্লিয়ার এনার্জি।

কেন এই নবায়নযোগ্য শক্তি: বিভিন্ন ধরনের নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু করার আগে একটু দেখে নেয়া যাক কেন আমরা এই নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করবো? সমগ্র বিশ্বজুড়েই এখন শক্তির সংকট চলছে। এছাড়া আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানীর মজুদ সীমিত, যা এক সময় না এক সময় ফুরিয়ে আসবেই। তাই প্রয়োজনের তাগিদে এবং পরিস্থিতির বিচারে জ্বালানী হিসেবে বিকল্প জ্বালানীকেই আমাদের বেছে নিতে হবে।

বিশ্বজুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানীর দাম দিন দিন বাড়ছে। জ্বালানীর দামের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম। যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই মানুষের জীবনযাত্রার নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কিন্তু দেখা গেছে জীবাশ্ম জ্বালানীর পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানী ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ খরচ বাঁচানো সম্ভব।

জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহারে বায়ুমন্ডলে গ্রীণ হাউস গ্যাসের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানীর পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানী ব্যবহার করলে বায়ুমন্ডলে গ্রীণ হাউস গ্যাস (যেমন- কার্বন-ডাই অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন, ওজোন) এর পরিমাণ কমে আসবে। ফলে পরিবেশ দূষণ অনেকটাই কমে যাবে। তাই ‘সবুজ শক্তি’ (Green Power)-এর উৎস হিসেবে আমাদের বিকল্প জ্বালানীকেই বেছে নেয়া প্রয়োজন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহার করা সম্ভব নয়। যেমন- মহাকাশযানগুলোতে ক্রমাগত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানীর পরিবর্তে NASA-র গবেষকরা বের করেছেন এক অনন্য সাধারণ প্রযুক্তি, যার ফল হিসেবে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে (ISS যা আলফা স্টেশন নামেই বেশি পরিচিত) ব্যবহার করেছেন ‘Solar Wing’।

১. সৌর শক্তির ব্যবহার: আমরা যেসব শক্তি ব্যবহার করি তা কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকেই আসে। আসলে আমাদের টিকে থাকার জন্য প্রতি মুহূর্তে সূর্যের উপরেই নির্ভর করতে হয়। পৃথিবীর আবহাওয়া এবং জলবায়ুও অনেকাংশে সূর্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু, সত্য কথা হলো সূর্য আমাদের প্রতিদিন যে পরিমাণ শক্তি দিয়ে যাচ্ছে তার বেশিরভাগই আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। প্রতিদিন যে পরিমাণ শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তার অল্প পরিমাণ ব্যবহার করতে পারলেও বর্তমান সময়ের এই শক্তি সংকট অনেকটাই সমাধান করা যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। বর্তমানে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে সৌরশক্তিকে মূলত দুটি উপায়ে ব্যবহার করা হয়- সূর্যের তাপশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কোনো পদার্থকে গরম করা। সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন।

২. বায়ুশক্তি : নবায়নযোগ্য  শক্তির অন্যতম উৎস হচ্ছে বায়ুশক্তি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই বাতাসের গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শক্তি উৎপাদন করা হচ্ছে। এই বায়ুশক্তি উৎপাদনের পেছনেও সূর্যের একটি পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। দিনের বেলায় আমরা সূর্যের আলো পাই। পৃথিবীর যেসব স্থানে সূর্যের তাপ বেশি পড়ে সেসব স্থানের বাতাস আশেপাশের অপেক্ষাকৃত কম গরম এলাকার বাতাসের চেয়ে হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। তখন ঠান্ডা বাতাস সেই স্থানে পূরণের জন্য প্রচন্ড গতিশক্তি নিয়ে ছুটে আসে। ফলে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। এই বায়ুপ্রবাহকে কাজে লাগিয়েই উৎপন্ন করা হয় যা বায়ুশক্তি হিসেবে পরিচিত।

৩. বায়োগ্যাস : গোবর, পশু-পাখি ও মানুষের বর্জ্য, আবর্জনা, কচুরিপানাসহ যে কোনো ধরনের পচনশীল জৈব পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে জীবাণু (যেমন- ব্যাকটেরিয়া) এর দ্বারা পচনের ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানী উৎপন্নহয় তার নাম বায়োগ্যাস। এর প্রধান উপাদান হচ্ছে মিথেন। এছাড়াও এতে ৫৫-৬৫ শতাংশ মিথেন এবং ৩০-৪০ শতাংশ কার্বন-ডাই অক্সাইড থাকে। এছাড়াও নাইট্রোজেন এবং হাইড্রোজেন সালফাইড থাকে। বায়োগ্যাস ব্যবহারে কোনো ধরনের গন্ধ এবং ধোঁয়া সৃষ্টি হয় না। মূলত বিশেষভাবে তৈরি আবদ্ধ কোনো স্থানে আবর্জনা পচিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করা হয়। ১ কিউবিক মিটার বায়োগ্যাস থেকে ৫৫০০-৬৫০০ কিলোক্যালরি তাপশক্তি পাওয়া যায়।

৪. বায়োডিজেল : বায়োডিজেল হলো উদ্ভিজ্জ তেল থেকে তৈরি এক ধরনের বিকল্প জ্বালানী। রসায়নের ভাষায় বায়োডিজেল হলো উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত তেলের মিথাইল বা ইথাইল এস্টার। ধারণা করা হয়, সালোক সংশ্লেষণের সময় সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়। এই সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তিই হলো বায়োডিজেলের শক্তির উৎস।

৫. জলবিদ্যুৎ : জলবিদ্যুৎ (Hydroelectricity) হলো এক ধরনের নবায়নযোগ্য শক্তি, যে শক্তি পানির গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন করা হয়। বর্তমানে বিশ্বে মোট উৎপাদিত জল বিদ্যুতের পরিমাণ প্রায় ৬,৭৫,০০০ মেগাওয়াট, যা দিয়ে প্রায় এক বিলিয়ন মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ হচ্ছে। (National Renewable Energy Laboratory)

৬. ফুয়েল সেল : ফুয়েল সেল হচ্ছে এমন একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ যেখানে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের বিক্রিয়ার মাধ্যমে সরাসরি ডিসি কারেন্ট উৎপন্ন হয় এবং বাই প্রোডাক্ট হিসেবে উৎপন্ন হয় পানি এবং তাপ।

৭. জিওথার্মাল এনার্জি : জিওথার্মাল এনার্জি বলতে বোঝায় ভূ-তাপীয় শক্তি বা পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ তাপশক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রাপ্ত শক্তি। বর্তমানে এই জিওথার্মাল এনার্জিকে কাজে লাগিয়ে সারা বিশ্বে প্রায় ৮০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০০০ কিলোমিটার নিচে তাপমাত্রা হচ্ছে প্রায় ৫০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং তা সূর্য পৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় সমান। এই প্রচ- তাপে ভূ-গর্ভস্থ পাথর গলে যায় যা ম্যাগমা নামে পরিচিত। এই গলে যাওয়া পাথর বা তরল ম্যাগমার ঘনত্ব কম হওয়ায় তা উপরের দিকে উঠে আসে এবং যখন তা ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরের সংস্পর্শে আসে তখন পানির তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় এই পানি বাষ্পে পরিণত হয়। মূলত এই গরম পানি বা বাস্প দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এছাড়াও এই গরম পানি বা বাস্পকে সরাসরি শীতপ্রধান দেশে কক্ষ গরম রাখতেও ব্যবহার করা যায়। এভাবেই ভূ-গর্ভস্থ তাপশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায় যা জিওথার্মাল এনার্জি নামে পরিচিত।

৮. নিউক্লিয়ার এনার্জি : বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি শক্তি হচ্ছে নিউক্লিয়ার এনার্জি বা পরমাণু শক্তি। প্রযুক্তিগত দিক থেকে অন্যান্য শক্তির উৎসগুলো থেকে নিউক্লিয়ার এনার্জি কিছুটা আলাদা। কারণ এই শক্তি আসে পদার্থের একেবারে কেন্দ্রস্থল- নিউক্লিয়াস থেকে। নিউক্লিয়াস থেকে পাওয়া যায় বলে এই শক্তির নাম নিউক্লিয়ার এনার্জি।

এই নিউক্লিয়ার প্রযুক্তির মূলে রয়েছে নিউক্লিয়ার ফিশান বিক্রিয়া যার মাধ্যমে পরমাণু ভেঙ্গে যায়। প্রতিটি পরমাণুর মাঝে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত থাকে। যখন ১ পাউন্ড ট-২৩৫ বিভাজিত হয় তখন বিভাজিত টুকরোগুলো এবং যুক্ত নিউট্রনের মোট ভর হয় ০.৯৯৯ পাউন্ড। অর্থাৎ বাকি ০.০০১ পাউন্ড পদার্থ পরিণত হয় শক্তিতে। এই শক্তি ১১ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ শক্তির সমতুল্য। এই সমপরিমাণ শক্তি পেতে আমাদের দেড় হাজার টন কয়লা কিংবা দুই লাখ গ্যালন গ্যাসোলিন পোড়াতে হবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের সুবিধাগুলো হলো-

  • নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের খরচ খুব একটা বেশি নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচের চেয়ে কম।
  • নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টে অল্প পরিমাণ জ্বালানী দিয়েই বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করা যায়। এক টন কয়লা থেকে যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায় ১ গ্রাম ইউরেনিয়াম থেকে সেই পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়।
  • নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের প্রযুক্তি অন্যান্য পাওয়ার প্লান্টের প্রযুক্তির চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।
  • নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টে উৎপাদিত বর্জ্যরে পরিমাণ তুলনামূলক কম।
  • নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট পরিবেশ বান্ধব। কারণ এতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড সহ অন্যান্য গ্রীণ হাউজ গ্যাস উৎপন্ন হয় না।

৯. আবর্জনা থেকে শক্তি : প্রতিদিনই কমবেশি সকল বাসা বাড়িতেই আবর্জনা হয়। আমরা সেসব আবর্জনা ফেলে দেই ডাস্টবিনে। কিন্তু আপনারা কি জানেন, আবর্জনা থেকেও তৈরি করা সম্ভব শক্তি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই এখন আবর্জনা থেকে শক্তি উৎপাদন করা হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৫টিরও বেশি দেশে রয়েছে আবর্জনা থেকে শক্তি উৎপাদনের প্লান্ট। তবে এদের মধ্যে শীর্ষ স্থানীয় ৫টি দেশ হলো ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, আমেরিকা ও স্পেন। আবর্জনাকে পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদনের জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের প্লান্ট। সারা বিশ্বে এরকম প্লান্টের সংখ্যা ৬০০-র বেশি।

১০. টাইডাল এনার্জি : টাইডাল এনার্জি মূলত সমুদ্রের ঢেউকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত শক্তি। বিশ্বে দিন দিন যেভাবে শক্তির চাহিদা বেড়ে চলছে, তাতে শক্তি আহরণের নতুন নতুন উৎস খুঁজে বের করাটাও জরুরি হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই সমুদ্রের ঢেউ থেকে উৎপাদিত হচ্ছে আমাদের টিকে থাকার প্রধান রসদ- শক্তি। পরিবেশ বান্ধবসহ আরও বিভিন্ন সুবিধা থাকার কারণে নবায়নযোগ্য শক্তির একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে টাইডাল এনার্জি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। টাইডাল এনার্জিকে অনেকেই বাংলায় ‘জোয়ার ভাটার শক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে তা এখনও বহুল প্রচলিত নয়।

বর্জ্য আমদানী বন্ধ করুন: বাংলাদেশে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো থেকে নানা ধরণের ই-ওয়েস্ট বা ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য আমদানী হচ্ছে আমাদের দেশে।প্রতি বছর প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ব্যবহৃত (সেকেন্ড হ্যান্ড) কম্পিউটার তৃতীয় বিশ্বে পাঠানো হচ্ছে। এসব কম্পিউটারের অন্যতম ক্রেতা হলো- চীন, ভারত ও বাংলাদেশ। অর্থাৎ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে উন্নত দেশগুলো ইলেক্ট্রনিক বর্জ্যরে ডাম্পে পরিণত করছে। তাছাড়া সেকেন্ড গাড়ি বাংলাদেশে আসছে এসব কতটুকু পরিবেশ বান্ধব বা কতটুকুইবা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রামের সীতাকু- শিপইয়ার্ডে যেসব বিদেশী জাহাজ (পরিত্যক্ত) এনে ভাঙ্গা হচ্ছে- এসব জাহাজের মধ্যে হাজার হাজার টন বর্জ্য রয়েছে যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসছে। এসব দূষিত তরল পদার্থ সীতাকু- অঞ্চলে কৃষি সম্পদ, মৎস্যসম্পদ, বনজ সম্পদ বিনষ্টের অন্যতম কারণ। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে, গত বিশ বছরে এ অঞ্চলে প্রায় ২৫ প্রজাতির মাছের বিলুপ্তি ঘটেছে। পরিবেশ বিনষ্টকারী এ ধরণের আত্মঘাতি ধ্বংসযজ্ঞ হতে রক্ষা করতে সরকারের উচিত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া।

কার্বন ধরে রাখতে পরিকল্পিত বনায়ন: বিশ্বজুড়ে যখন পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা বলা হচ্ছে, ঠিক তখন বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর তীরের বেড়িবাঁধের বনায়ন কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে। সীতাকুন্ডের উপকূলীয় অঞ্চলে এমনিতে চলছে নগরের আগ্রাসন। তার উপর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমির অবনমন, পাহাড় কেটে পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে প্রতিবছর অনেক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে আমাদের প্রয়োজন এ মুহূর্তে আধুনিক ও টেকসই বনায়ন। সমূদ্র উপকূলে বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সঠিকভাবে বনায়ন করতে হবে। পাশাপাশি এসব বনায়ন কিভাবে রক্ষা করা যায় এবং বনায়ন কিভাবে অর্থনৈতিকভাবে আমাদের লাভবান করবে সে বিষয়টিও গবেষণা করা উচিত।

জ্বালানী সাশ্রয়ী আবাসন: একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী ভোগবাদী সমাজ ব্যবস্থা অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মানুষ। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি জলবায়ু পরিবর্তনের ভিকটিম দেশ। জলবায়ু পরিবর্তন তথা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণের জন্য আমরা এতটা দায়ী না হলেও আমাদের জীবনযাপন-এর সবক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। বড় বড় অট্টালিকা তৈরি হবে অথচ পরিবেশ রক্ষা হবে না- এ ধরণের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। বাড়িঘর বা বড় দালান নির্মাণে প্রয়োজনীয় খালি জায়গা রাখতে হবে। প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের প্রবেশ যেন সহজে হয় সে ধরনের টেকনোলজি ব্যবহার করতে হবে যাতে কম বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালাতে হয়, লিফট, জেনারেটর, এয়ার কন্ডিশন এসবের ব্যবহার কমাতে গ্রীণ বিল্ডিং টেকনোলজির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামের বাড়িঘর নির্মাণেও বিদ্যুত সাশ্রয়ী বিল্ডিং টেকনোলজির ব্যবহার প্রয়োজন। বিল্ডিং বা বাড়িঘর নির্মাণে সবুজায়ন বা গ্রীণ টেকনোলজির ব্যবহার প্রয়োজন।

শিল্পোন্নত দেশগুলোকে জিডিপির ১.৫ ভাগ জলবায়ু তহবিলে প্রদান করতে হবে: মেক্সিকোর কানকুনে আসন্ন কপ ১৬ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) গতকাল বুধবার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক মানব বন্ধনের আয়োজন করে। এতে বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তন ও এর নেতিবাচক প্রভাবে স্বল্পোন্নত দেশগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা যে চরম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে তা তুলে ধরে অবিলম্বে এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। বক্তারা বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে গ্রীণ হাউজ গ্যাস নিঃসরণ শতকরা ৪৫ ভাগ কমাতে হবে, শিল্পোন্নত দেশগুলোকে জিডিপি’র ১.৫% জলবায়ু তহবিলে প্রদান করতে হবে এবং জলবায়ু তহবিলের অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জলবায়ু সংকটকে ব্যবসার হাতিয়ারে পরিণত না করে বক্তারা জলবায়ু সুবিচার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে ধনী দেশগুলোকে তাদের প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী জিডিপি’র ১.৫% জলবায়ু তহবিলে এবং জাতীয় আয়ের ০.৭% শর্তহীনভাবে উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করার জোর দাবি জানান। বক্তব্য রাখেন সুপ্র সভাপতি আবদুল আউয়াল, সুপ্র উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক সংগঠন গ্রীন ভয়েসের স ম হীরক। মানববন্ধনে সংহতি ও ঐক্য প্রকাশ করে সুপ্র ঢাকা ক্যাম্পেইন গ্র“পের নেতৃবৃন্দ। মানব বন্ধনে সুপ্র সচিবালয় কর্মকর্তাবৃন্দ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষসহ বিভিন্ন সমমনা সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মানববন্ধনে গণসংগীত পরিবেশন করেন সুপ্র ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলার মুখের সদস্যবৃন্দ।

জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত চুক্তি দ্রুত করতে হবে: বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপার নিয়ে কোনো চুক্তিতে উপনীত না হওয়া গেলে আগামি প্রজন্ম হুমকির মুখে পড়বে।  বিশ্বের পরিবেশ সংক্রান্ত কিয়াটো চুক্তির মেয়াদ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। এ সংক্রান্ত নতুন চুক্তি তৈরি করার জন্য চলতি বৈঠকে চেষ্টা করা হবে। বিশ্বের জলবায়ু সংক্রান্ত চুক্তির ব্যাপার নিয়ে শেষ বৈঠক হবে আগামি ডিসেম্বর মাসে কোপেনহেগেনে হওয়ার কথা রয়েছে। গত দুই বছর যাবৎ চেষ্টা করেও এখনো এ ব্যাপারে কোনো খসড়া চুক্তি তৈরি করা সম্ভব হয় নি। গ্রীণ হাউজ গ্যাস সমূহের নির্গমন বন্ধ এবং এ সংক্রান্ত ব্যয় বহন করার বিষয় নিয়ে সবচেয়ে মারাত্মক মতানৈক্যের সৃষ্টি হয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধামন্ত্রী অভিজিৎ ভেজ্জাজিভা উদ্বোধনী ভাষণে বলেছেন, কোপেনহেগেনের বৈঠকের আগে আর মাত্র দুই মাস সময় রয়েছে যদি এ সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তি তৈরি করা না যায় তবে আমাদের সন্তানরা কোনোদিনই আমাদেরকে ক্ষমা করবে না।

পরিশেষে, আধুনিক বিশ্ব এখন অতি আধুনিক। অতি প্রযুক্তিনির্ভর। প্রযুক্তি নির্ভরতার অর্থ এই নয় যে, প্রকৃতিকে ধ্বংসের দিকে দিন দিন ঠেলে দেয়া। কিন্তু আধুনিক বিশ্ব মানুষের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করার নামে কিছু কিছু উপাদান চলে আসছে যা হয়তো ব্যক্তিগতভাবে খুবই উপভোগ্য পণ্য। কিন্তু পরিণামে সামগ্রিকভাবে সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। এমন অনেক উদাহরণ আমাদের চারপাশে হরহামেশায় দেখা যাচ্ছে। ভোগ ও বিলাসীয় ডুবে থাকা আধুনিক বিশ্বের মানুষ আজ পৃথিবীকে বসবাস অনুপযোগী বানিয়ে ফেলছে দিন দিন। সহজ জীবন যাপনের কথা মানুষ ভুলে যাচ্ছে। সবাই এক ধরণের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কার আগে ফ্ল্যাট হবে, গাড়ি হবে, কোটি কোটি টাকা ব্যাংক ব্যাল্যান্স হবে- এ প্রতিযোগিতায় মানবসভ্যতা আজ কঠিন পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।

গ্রীণ হাউজ গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী বিশ্ব মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে। ভয়ঙ্কর সব সমস্যা আমাদের মতো দেশের জন্য। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, চীনের হিমবাহ খুব দ্রুত গলছে। এই হারে গলতে থাকলে এ শতকের মাঝে চীনের সমস্ত হিমবাহ গলে পড়বে। আর এতে ভয়াবহ পানি সঙ্কট দেখা দিতে পারে। গ্রীণ হাউজ গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী মূলত শিল্পোন্নত দেশগুলো। তাই তাদের নৈতিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে ক্লাইমেট চেঞ্জ সমস্যা উত্তরণের জন্য।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *