সপ্তম শ্রেণি

সপ্তম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের প্রথম অধ্যায়ের প্রথম পাঠে নতুন যা শিখলাম


 

ডেস্কটপ:  ডেস্কটপ হলো ব্যক্তিগত কম্পিউটার যা দৈনন্দিন কাজে সাধারণত ডেস্ক বা টেবিলে রেখে ব্যবহার করা যায় এমন কম্পিউটার। এর আকার এবং বৈদ্যুতিক শক্তির প্রয়োজনীয়তার কারণে এটি ল্যাপটপ কম্পিউটারের ঠিক বিপরীত। ডেস্কটপ কম্পিউটারে সাধারণত মনিটর, কিবোর্ড, মাউস এবং একটি বাক্স থাকে যাকে বলা হয় সিস্টেম ইউনিট। সিস্টেম ইউনিটে কম্পিউটারের মূল অংশগুলো থাকে যেমন: পাওয়ার সরবরাহকারী, মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক, অপটিক্যাল ড্রাইভ, ফ্লপি ড্রাইভ ইত্যাদি। বর্তমানে একের-মধ্যে-সব এমন কম্পিউটারগুলোতে মনিটর এবং ডেস্কটপ কম্পিউটারের সকল উপাদানগুলো একসাথে একটি মাত্র বাক্সে পাওয়া যায়। এগুলোকে ডেস্কটপ হিসেবে গন্য করা হয়, বিশেষভাবে তখন, যখন এগুলো চালানোর জন্য বাহিরের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও আলাদা কিবোর্ড, মাউস লাগে। ডেস্কটপ কম্পিউটারের শ্রেণীতে হোম কম্পিউটার এবং ওয়ার্কস্টেশনগুলোকেও ধরা হয়।

 

ল্যাপটপ: ডেক্সটপ থেকে আকারে ছোট কম্পিউটারগুলো সহজে বহন ও ব্যবহার করা যায়। এটি lap (কোল) এর উপর top (উপর) রেখে কাজ করা যায়। ল্যাপটপ কম্পিউটারে ডেস্কটপ কম্পিউটারের সমস্ত উপাদান এবং সকল ইনপুটগুলোকে একত্রিত করা হয়। যেখানে শুধুমাত্র একটি যন্ত্রে মনিটর, স্পিকার, কিবোর্ড এবং টাচপ্যাড বা ট্র্যাকপ্যাড থাকে। বর্তমানের বেশিরভাগ ল্যাপটপের সঙ্গেই ওয়েবক্যাম এবং মাইক্রোফোন থাকে। ল্যাপটপের সাথে আরো থাকে ব্যাটারি, যা অনেক সময় ধরে ব্যাকাপ দেয় এবং এসি এডাপ্টারের মাধ্যমে বিদ্যুতের সরাসরি সংযোগ। ল্যাপটপের মডেল, প্রকারভেদ ও উত্পাদনের উপর হার্ডওয়্যারের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। সহজে বহনযোগ্য এ কম্পিউটারগুলোকে পূর্বে ছোট কম্পিউটার হিসেবে গন্য করা হতো এবং এগুলো বিশেষ ধরনের প্রায়োগিক কাজে ব্যবহার করা হতো যেমন সৈনিকদের কাজে, হিসাবরক্ষনের কাজে, বিক্রয় প্রতিনিধিদের প্রয়োজনে ইত্যাদি। একসময় এ ছোট কম্পিউটারগুলো আধুনিক ল্যাপটপে পরিণত হয়। ল্যাপটপ আকারে আরো ছোট, পাতলা, সস্তা, হালকা এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হতে থাকে ফলে বহুমুখী কাজে এদের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়।

 

নোটবুক: বর্তমান সময়ের আলোচিত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস হলো নোটবুক। নোটবুক একধরনের ল্যাপটপ যার নকশা এবং বাজারজাতকরণ করা হয়েছে বহনযোগ্যতার কথা মাথায় রেখে। এগুলো কার্যক্ষমতায় ল্যাপটপ থেকে অনেকাংশে কম, আকারে ছোট বা সমান, কম ওজনের এবং প্রায়শই অতিমাত্রায় ব্যাটারির ধারনক্ষমতা সম্পন্ন হয়। নোটবুকগুলো সাধারনত ছোট আকৃতির ও হালকা হয় সাধারন মানের ল্যাপটপের তুলনায়। ওজন হতে পারে ০.৮-২ কেজি (২-৫ পাউন্ড) এবং ব্যাটারির ধারণ ক্ষমতা হতে পারে ৬ ঘন্টারও বেশি।

 

স্মার্টফোন: স্মার্টফোন হলো বিশেষ ধরনের মোবাইল ফোন যা মোবাইল কম্পিউটিং প্লাটফমের্র ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে সর্বাধিক প্রচলিত স্মার্টফোনসমূহ হলো আইফোন, ব্ল্যাকবেরি মোবাইল, বিভিন্ন কোম্পানির (স্যামসাং, সনি, গুগল নেক্সাস, মাইক্রোসফট, সিম্ফোনি) স্মার্ট ডিভাইজ। প্রতিটি ডিভাইজেরই একটি নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম  রয়েছে যেমন আইওএস, ব্ল্যাকবেরি ওএস, উইন্ডোজ এবং অ্যান্ড্রয়েড ইত্যাদি। এদের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড একটি ওপেন সোর্স মোবাইল ফোন অপারেটিং সিস্টেম যা বিভিন্ন প্রজেক্টের  ওযেন সোর্স প্রজেক্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরী। বর্তমান সময়ে সামগ্র বিশ্বে  স্মার্টফোন একটি অতি প্রয়োজনীয় ও ব্যবহূত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইজ।

 

জিপিএস: নিখুঁতভাবে পৃথিবীর কোন স্থানের অবস্থান সম্পর্কে জানতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার হয় তার নাম Global Positioning System বা সংক্ষেপে GPS। গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম এর সংক্ষিপ্ত রূপ জিপিএস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সত্তর দশকের শুরুর দিকে এর উদ্ভব করেন। প্রথম দিকে এর প্রয়োগ ছিল পুরোপুরি সামরিক বিভাগে। অত:পর জনসাধারণের ব্যবহারের নিমিত্তে এর ব্যবহার উন্মুক্ত করা হয়। এটি একটি কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। যে কোনো আবহাওয়া তে পৃথিবীর যেকোনো চলমান অবস্থান আর সময়ের তথ্য সরবরাহ করাটা এর মূল কাজ। জিপিএস এক ধরনের একমুখি ব্যবস্থা কারণ ব্যবহারকারীগণ উপগ্রহ প্রেরিত সঙ্কেত শুধুমাত্র গ্রহণ করতে পারে। একসময় মানচিত্র কম্পাস, স্কেল ইত্যাদি দিয়ে মেপে ও অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের সাহায্যে ভূপৃষ্ঠের কোন স্থানের অবস্থান (Position) নির্ণয় করা হতো। বর্তমানে গাডি, জাহাজ, প্লেন, ল্যাপটপ এমনকি মোবাইল ফোনেও এখন এচঝ রিসিভার থাকে।
সপ্তম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের প্রথম অধ্যায়ের দ্বিতীয় পাঠে নতুন যা শিখলাম


ই-বুক রিডার: ই-বুক রিডার হলো এমন একটি বহনসক্ষম বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা তৈরি করা হয়েছে ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক বই এবং সাময়িকপত্র পড়ার জন্য। লেখা প্রদর্শন করতে পারে এমন যেকোন যন্ত্রই ই-বুক রিডারের মত কাজ করে কিন্তু বিশেষ ই-বুক রিডার কাজের জন্য তৈরি করা যন্ত্রগুলোতে বিশেষ ধরনের সুবিধা থাকে যা বহনযোগ্যতা, পড়া (বিশেষ করে রোদের আলোয়) এবং ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ইত্যাদি। হাজার হাজার ছাপানো বই একটি মাত্র ই-বুক রিডারে ডিজিটাল বই হিসেবে জমা থাকতে পারে এবং প্রয়োজনে আরো জমা রাখা যেতে পারে। ইলেকট্রনিক বুক রিডার সংক্ষেপে ই-বুক রিডার নামে পরিচিত। ই-বুক রিডারকে বলা ই-বুক ডিভাইস। যেসব ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ডিজিটাল বই পড়া যায় তা হচ্ছে ই-বুক রিডার। মুদ্রণ বা প্রকাশনা জগতে ই-বুক রিডার সামগ্রিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। প্রধান সুবিধা হচ্ছে ই-বুক রিডারসমূহ সহজে বহনযোগ্য, হালকা, সহজে ব্যবহারযোগ্য, ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী এবং এমনকি উজ্জ্বল সূর্য রশ্মিতে পড়া যায়।
উইকিপিডিয়া: উইকিপিডিয়া হলো ইন্টারনেট জগতের বৃহত্তম, সমৃদ্ধতম তথ্যভাণ্ডার এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় বিশ্বকোষ । এখানে পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য প্রত্যেকটি বিষয়ের উপর এনসাইক্লোপিডিয়া বা সুবিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এটি ইন্টারনেট ভিত্তিক মুক্তভাবে ব্যবহারযোগ্য এবং বিজ্ঞাপনমুক্ত । উইকিপিডিয়া বিশ্বের ২৮৮ ভাষায় স্বেচ্ছাসেবীদের তৈরি ১ কোটি ৬০ লক্ষ নিবন্ধ রয়েছে । প্রতি মাসে বিশ্বের প্রায় ৪৫৩ মিলিয়ন মানুষ উইকিপিডিয়া পরিদর্শন করে , যা এটিকে  বিশ্বের ৫ম সর্ব উচ্চ  পরিদর্শনকারী ওয়েবসাইট এ পরিণত হয়েছে । এটি একটি সহযোগিতামূলক প্রকল্প, প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৯ বছরে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিনিয়ত সম্পাদনা ও বিষয়বস্তু যোগ করেছে ও করে চলছে । উইকিপিডিয়ার নীতি ই হচ্ছে, যে-কেউ যেকোনো সময় সম্পাদনা করতে পারে । মানবজাতির ইতিহাসে উইকিপিডিয়া হচ্ছে এখন পর্যন্ত সর্ববৃহত্ জ্ঞান ভাণ্ডার, যা ভাগাভাগির মাধ্যমে  তৈরি এবং যে সকল মানুষেরা এখানে কাজ করেন, তাঁরা তাদের জানার প্রতি ভালবাসা থেকেই একত্রিত হয়েছেন । তাঁরা তাদের বোধপূর্ণ কৌতুহল এবং সচেতনতার মাধ্যমে উপলব্ধি করেছেন যে, এককভাবে আমরা যেটুকু জানতে পারি, তার থেকে একসাথে কাজ করার মাধ্যমে আমরা আরও বেশি জানতে পারি ।
ডাউনলোড: কোন দূরবর্তী কম্পিউটার (ওয়েব সার্ভার, এফটিপি সার্ভার, ই-মেইল সার্ভার) থেকে অন্য কম্পিউটারে কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য  বা ফাইল কপি করে নেয়াকে ডাউনলোড বলে। আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে যদি কোন ফাইল কোন ওয়েব সাইট থেকে নিজের কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে কপি করে রাখার যে পদ্ধতিটিই হলো ডাউনলোড। সাধারণত স্থানীয় (কম্পিউটার) সংগ্রহস্থলে রেখে পরে ব্যবহার করার জন্য কোন ফাইল বা তথ্য ডাউনলোড করা হয়।
ই-চিকিত্সা কেন্দ্র: ই-চিকিত্সা হলো যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে দূর থেকে চিকিত্সাসেবা বা চিকিত্সা সম্পর্কিত পরার্মশ গ্রহণ/প্রদান পদ্ধতি। এ ব্যবস্থায় পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ যেকোনো সমস্যায় যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিত্সকের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিত্সাসেবা বা পরামর্শ নিতে পারে। আর যে চিকিত্সা কেন্দ্র থেকে এ সেবা নেয়া হয় সেই চিকিত্সা কেন্দ্রকেই বলা হয় ই-চিকিত্সা কেন্দ্র। বিজ্ঞানের যে কয়টি শাখা দ্রুত উন্নতি করেছে, চিকিত্সাবিজ্ঞান তার মধ্যে অন্যতম। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বের যেকোনো স্থানে বসেই এখন ই-চিকিত্সা পদ্ধতিতে চিকিত্সাসেবা গ্রহণ করা সম্ভব। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে চিকিত্সকেরা আর অনুমানের ওপর নির্ভর করে না। একজন রোগী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শরীরকে সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা এবং রোগ নির্ণয় তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে করা যায়। শুধু তা-ই নয়, প্রাপ্ত তথ্যগুলো ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা যায়।