ষষ্ঠ শ্রেণি

ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের প্রথম অধ্যায়ের প্রথম পাঠ

এসএমএস : এসএমএস (SMS) বা শর্ট মেসেজ সার্ভিস (Short Message Service) বা ক্ষুদে বার্তা সেবা, যা তথ্য আদান প্রদানের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। সব মোবাইল ফোন কোম্পানি এবং বেসরকারি ল্যান্ডফোন কোম্পানি এই সুবিধা দিয়ে থাকে। এতে মোবাইলের কি প্যাডের মাধ্যমে শব্দ বা বাক্য লিখে মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে অন্য কোন মোবাইলে আন্ত অপারেটর বা আন্ত:দেশীয় বার্তা পাঠানো হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে এসএমএস-এর মাধ্যমে পরীক্ষার ফলাফল জানা, বিভিন্ন দিবসের সচেতনতামূলক প্রচার, কোন বিশেষ দিবসের শুভেচ্ছা জানানোসহ জাতীয় ও ব্যক্তিগত খবর পৌঁছানো হয়।
ইন্টারনেট: ইন্টারনেট এক বিশেষ ধরনের যোগাযোগ প্রযুক্তি বা কম্পিউটার নির্ভর বৈশ্বিক তত্ত্ব পদ্ধতি যা বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার সংযোগের মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদান করার প্রক্রিয়াই হল ইন্টারনেট সিস্টেম। ইন্টারনেট ব্যবস্থায় ই-মেইল এর মাধ্যমে চিঠি আদান-প্রদান করা যায়। পরস্পর সম্পর্ক যুক্ত অনেকগুলো কম্পিউটার কেন্দ্রিক নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্কের সমষ্টিই হচ্ছে ইন্টারনেট। প্রতিটি নেটওয়ার্কের সাথে শত শত অথবা হাজার হাজার কম্পিউটার যুক্ত থাকে, এগুলোর একটি অন্যটির সাথে গণনাকারী তথ্য যেমন শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার সমূহ এবং তথ্যের উপাত্ত ভান্ডার আদান প্রদান সক্ষম করে।
মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর: মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর হলো একটি আউটপুট ডিভাইজ। যা কম্পিউটার বা দেখা যায় এমন কোন আইসিটি ডিভাইজের আউটপুট অনেক বড় আকারে বড় পর্দায়  দেখানোর একটি মাধ্যম।  মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর কম্পিউটারের বা কোন আইসিটি ডিভাইজের সাথে মনিটরের মতো ভিজিএ ক্যাবলের মাধ্যমে বা আধুনিক পদ্ধতি এইচডিএমআই ক্যাবল বা ইউএসবি ক্যাবল বা ওয়াইফাই এর মাধ্যমে সংযোগ করা যায়। বর্তমানে বাজারে খুব সহজলভ্য মূল্যে এলসিডি, এলইডি বা ডিএলপি পদ্ধতির এসব মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর পাওয়া যায়। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের প্রায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষকরা ক্লাস নিয়ে থাকেন।
বেতার: বেতার শব্দটির অর্থ হচ্ছে তারবিহীন। কোনো প্রকার তারের সংযোগ ছাড়া দূরবর্তী কোন স্থানে সংকেত পাঠানোর পদ্ধতিকে বলা হয় বেতার। বেতার হল তার ব্যতীত যোগাযোগের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এতে তড়িত্ চৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে তথ্য প্রেরণ বা গ্রহণ করা হয়। ঊনবিংশ শতাব্দির শেষের দিকে অনেক দেশের বিজ্ঞানী প্রায় একই সময়ে বেতার আবিষ্কারের ঘোষণা করলেও গুলিয়েলমো মার্কোনিকে বেতারের আবিষ্কারক হিসাবে ধরা হয়। পূর্বে শুধু রেডিওতে ব্যবহূত হলেও বর্তমানে বেতার প্রযুক্তির ব্যবহার চলছে সর্বত্র। রেডিও (বেতার), টেলিভিশন (দূরদর্শন), মোবাইল ফোনসহ তারবিহীন যেকোনো যোগাযোগের মূলনীতিই হল বেতার। বর্তমানে বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে মহাকাশ পর্যবেক্ষণে ব্যবহূত হয় বেতার দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা রেডিও টেলিস্কোপ।
ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের প্রথম অধ্যায়ের দ্বিতীয় পাঠ


গ্লোবালভিলেজ: বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ বলতে সাধারণত এমন একটি ধারণাকে বোঝানো হয় যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন নিজ দেশের সীমানা গণ্ডী পেরিয়ে ও দেশ বা অঞ্চলের পরিচিতি ছাড়া পরস্পরের সাথে সহজে যাতায়াত ও ভ্রমণ, গণমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্ত থেকে এবং ক্রমেই একটি একক কমিউনিটিতে পরিণত হয়। গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রামকে নিম্নোক্তভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়- অক্সফোর্ড আমেরিকান ডিকশনারি অনুযায়ী- “বিশ্বকে বিবেচনা করা হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত একক সমপ্রদায়। উইকিপিডিয়ার উদ্ধৃতি অনুযায়ী- “বিশ্বগ্রাম হচ্ছে একটি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কাঠামো।
ভার্চুয়াল:  ল্যাটিন শব্দ ভার্চু থেকে ভার্চুয়াল শব্দটি এসেছে। ভার্চুয়াল শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ ‘কার্যসিদ্ধ’ বা ‘কার্যকর ক্ষমতাসম্পন্ন’। ভার্চুয়াল বলতে বোঝায় এমনকিছু যা অনুভবে আছে কিন্তু বাস্তবে নেই। “ফলতঃ বটে, কিন্তু বাহ্যতঃ নয় এমন”, বলা যায়, এটা এমন কিছু যার বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।
 ডিজিটাল: ইংরেজি Digit থেকে Digital শব্দের উত্পত্তি। Digit হচ্ছে noun আর Digital verb । Digit অর্থ সংখ্যা আর Digital অর্থ আঙ্গুল দিয়ে গণনা করা। মূলত ডিজিটাল এর অর্থ গণনা করা হলেও আঙ্গুল দিয়ে সংখ্যা গণনা করার মতই সহজ, তাই ডিজিটাল রুপক অর্থে ব্যবহার করা হয়।
ইলেক্ট্রনিক্স: ইলেক্ট্রনিক্স ইলেক্ট্রনিক এর বহুবচন। ইলেক্ট্রিক মানে বিদ্যুত। ইলেক্ট্রিকাল মানে যে লাইনে ইলেক্ট্রিক সরবরাহ হয়। তড়িত্ প্রকৌশলের একটি শাখা যেখানে ভ্যাকিউম টিউব, গ্যাস অথবা অর্ধপরিবাহী …তড়িত্ প্রকৌশলের একটি শাখা যেখানে ভ্যাকিউম টিউব, গ্যাস অথবা অর্ধপরিবাহী (semiconductor) যন্ত্রাংশের মধ্য দিয়ে ইলেক্ট্রনের প্রবাহ, সীমাবদ্ধতা, ব্যবহারিক আচরণ ও প্রক্রিয়া আলোচিত হয়। ১৯০৪ সালে জন অ্যামব্রোস ফ্লেমিং দুইটি তড়িত্ ধারক (electrodes) বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ বদ্ধ কাঁচের এক প্রকার নল (vacuum tube) উদ্ভাবন করেন ও তার মধ্য দিয়ে একমুখী তড়িত্ পাঠাতে সক্ষম হন। তাই সেই সময় থেকে ইলেকট্রনিকেসর শুরু হয়েছে বলা যায়।
ডিজিটাল যুগ: কম্পিউটার আবিষ্কারের  পরেই ডিজিটাল বিষয়টি ইলেক্ট্রোনিক্স ডিভাইসে ব্যবহূত হচ্ছে। বর্তমান যুগে প্রায় সমস্ত ইলেক্ট্রোনিক্স ডিভাইসগুলিতেই ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। ইলেক্ট্রোনিক্স ডিভাইসে ডিজিটাল সিস্টেম কিভাবে ব্যবহূত হয়। আগে ইলেক্ট্রোনিক্স ডিভাইসগুলিতে এনালগ পদ্ধতি ব্যবহার করা হত। এনালগ পদ্ধতিতে তরঙ্গ বা সিগন্যাল কে ভেরিয়েবল ডিভাইস দ্বারা কমানো বাড়ানো হতো। বর্তমান যুগে সকল ইলেক্ট্রোনিক্স ডিভাইসে তরঙ্গ বা সিগন্যালকে (শব্দ, ব্রাইট, কালার ইত্যাদি) গণনার মাধ্যমে বাড়ানো কমানো হয়। এটাই ডিজিটাল। যে যুগে এটা করা হয় বা হচ্ছে সেটাই ডিজটাল যুগ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ: বাংলাদেশের উন্নয়নে যুগান্তকারী এক দর্শন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য। সমৃদ্ধ ও উন্নত  সোনার বাংলা গড়তে নতুন অভিধা হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিপাদ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে বাংলাদেশকে আরো বেশি উন্নত, আরো বেশি গতিশীল এবং আরো বেশি সংবেদনশীল করাই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। বিশেষ বা ব্যক্তি বিশেষে এর ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে। একজন ছাত্রের কাছে তার উন্নতমানের শিক্ষা পাবার নিশ্চয়তা, একজন কৃষকের কাছে বাজারের নিশ্চয়তা,  একজন রোগীর কাছে দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে সুচিকিত্সা পাবার নিশ্চয়তা, একজন পেনশনভোগী,  একজন মুক্তিযোদ্ধা ও একজন বিধবার কাছে তাদের পেনশনের টাকাটা সময়মতো স্বচ্ছতার সাথে পাওয়ার নিশ্চয়তা অর্থাত্ প্রতিটি মানুষের চাহিদা মতো তার দোরগোড়ায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভাব্য সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায়  সহজেই সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য বর্তমান সরকার যে সময় নির্ধারণ করেছেন তা হচ্ছ ‘ভিশন-২০২১’। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবার এমনভাবে প্রসার ঘটানো, যাতে আগে যেসব সেবার জন্য নানা জায়গায় ছুটতে হতো তার আর দরকার হবে না – ঘরে বসেই কম্পিউটারে এবং মোবাইল ফোনে তা পাওয়া যাবে।
প্রযুক্তি: প্রযুক্তি হলো কিছু প্রায়োগিক কৌশল যা মানুষ তার প্রতিবেশের উন্নয়নকার্যে ব্যবহার করে।  যে কোন যন্ত্র এবং প্রাকৃতিক উপাদান সম্বন্ধে জ্ঞান এবং তা দক্ষভাবে ব্যবহারের ক্ষমতাকেও প্রযুক্তি বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে প্রযুক্তি হচ্ছে বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোর ব্যাবহারিক প্রয়োগ। জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই যুগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য, অথবা দক্ষ ব্যাবস্থাপনার জন্য তথ্য আহরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও তথ্য বিতরনের গুরুত্ব অনেক। আর এই তথ্য আহরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য বিতরনের ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কার্যাবলী পরিচালনার বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়াকেই এক কথায় “প্রযুক্তি” বলা হয়।
কম্পিউটার: সাধারণত কম্পিউটার হচ্ছে একটি ইলেকট্রিক গণনাকারী যন্ত্র, যা তথ্য গ্রহণ করে, প্রক্রিয়াকরণ করে সর্বশেষ ফলাফল প্রদর্শন করে। কম্পিউটার একটি আধুনিক অত্যন্ত দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র। অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের সাহায্যে দুই-তিনটির বেশী কাজ করা যায় না। কিন্তু কম্পিউটারের সাহায্যে অনেক রকম দুরূহ কাজ নিখুঁতভাবে করা সম্ভব। কম্পিউটারের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য হল ১. এটি লক্ষ লক্ষ তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে, ২. অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ও নির্ভুলভাবে নির্দেশিত নির্দেশসমূহ পালন করতে পারে। কম্পিউটার শব্দটি গ্রীক compute শব্দ থেকে এসেছে। compute শব্দের অর্থ হচ্ছে গণনা করা। মূলত কম্পিউটার (computer) শব্দের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র।
সফটওয়্যার: সফটওয়্যার হলো নির্দিষ্ট কিছু কমান্ড বা নির্দেশনার সমষ্টি যা একজন প্রোগ্রামার নির্দিষ্ট নিয়ম ও ভাষা ব্যবহার করে তৈরী করে থাকে। কম্পিউটার সফটওয়্যার বলতে একগুচ্ছ কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কর্মপদ্ধতি ও ব্যবহারবিধিকে বোঝায়, যার সাহায্যে কম্পিউটারে কোনো নির্দিষ্ট প্রকারের কাজ সম্পাদন করা যায়। সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার সিস্টেম সফটওয়্যার ও এ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। কম্পিউটার ব্যবস্থা ও তার বিভিন্ন উপকরণকে অর্থাত্ ডিস্ক ড্রাইভ, মাইক্রো প্রসেসর, স্মৃতি বা মেমোরিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য  যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, তাকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। যেমন, যে কোনও অপারেটিং সিস্টেম (ডস, উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ৭, লিনাক্স)। কোনও নির্দিষ্ট কাজের জন্য এ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারকে ব্যবহার করা হয়। প্রকৃত পক্ষে এই ধরনের সফটওয়্যার কোনও কম্পিউটারকে একটি কাজের যন্ত্রে পরিণত করে। যেমন ওয়ার্ড, এক্সেল, অ্যাক্সেস ইত্যাদি।
অপটিক্যাল ফাইবার:  অপটিক্যাল ফাইবার(Optical fiber) এক ধরনের পাতলা, স্বচ্ছ তন্তু বিশেষ, সাধারণত কাচ অথবা প্লাস্টিক দিয়ে বানানো হয়, যা আলো পরিবহনে ব্যবহূত হয়। ফাইবার অপটিকস ফলিত বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সেই শাখা যা এই অপটিক্যাল ফাইবার বিষয়ে আলোচনা করে। অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে লম্বা দুরত্বে অনেক কম সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য পরিবহন করা যায়। অপটিক্যাল ফাইবারের আরো অনেক সুবিধার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- এই ব্যবস্থায় তথ্য পরিবহনে তথ্য ক্ষয় কম হয়, তড়িত্-চুম্বকীয় প্রভাব থেকে মুক্ত ইত্যাদি।
উপগ্রহ:  উপগ্রহ হলো মহাকাশে উেক্ষপিত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবিত স্যাটেলাইট । স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার খবর আমরা নিমিষেই পেয়ে যাই। স্যাটেলাইটকে রকেট বা স্পেস শাটলের কার্গো বে-এর মাধ্যমে কক্ষপথে পাঠানো হয়। পাঠানোর সময় রকেট নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহূত হয় ইনার্শিয়াল গাইডেন্স সিস্টেম (আইজিএস) মেকানিজম।পৃথিবীর অভিকর্ষ পার হতে রকেটকে ঘণ্টায় ২৫ হাজার ৩৯ মাইল ত্বরণে ছুটতে হয়। উপগ্রহ পৃথিবী থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে।
ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে: আজকে বিশ্বের সমস্ত উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশ ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে বা তথ্যের মহাসড়কে প্রবেশ করে চলেছে। কম্পিউটার ভিত্তিক তথ্য বিনিময়ের অপূর্ব এই ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বিশ্বের তথ্য অবকাঠামো বা গ্লোবাল ইনফরমেশন ইনফ্রাষ্ট্রাক্চার বা সংক্ষেপে জিআইআই। পৃথিবীর প্রায় সব ধরনের তথ্য ব্যবস্থা এই জিআইআই এর অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে; তথ্যের এই মহা রাজপথে যার অবস্থান যত দৃঢ় হবে ঠিক সেই অনুপাতে তথ্য আর জ্ঞানের ভাণ্ডার চলে যাবে তার নিয়ন্ত্রণে, যা ছাড়া ভবিষ্যতে ঠিকে থাকা যেন এক দুঃসাধ্য ব্যাপার।
ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের প্রথম অধ্যায়ের তৃতীয় পাঠ


তথ্য: সংগৃহীত ডেটা বা উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর প্রয়োজন মত সাজানো বা অর্থপূর্ণ অবস্থাকে তথ্য বা ইনফরমেশন বলা হয়। বিভিন্ন উপাত্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিচালন এবং সংঘবদ্ধকরণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলকে তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় যা কোন মানুষের মস্তিষ্কে প্রেরণ করা হলে তার জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। একটি ধারণা হিসেবে নিলে তথ্য শব্দটির প্রচুর অর্থ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এবং প্রযুক্তি খাতে দৃষ্ট হয়। সাধারণভাবে বলতে গেলে তথ্যের ধারণাটি আরো বেশ কয়েকটি ধারণার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত: বাঁধা, যোগাযোগ, কট্রোল সিস্টেম, উপাত্ত, গড়ন, নির্দেশনা, জ্ঞান,  তত্ত্ব, উদ্দীপনা, গঠন, ধারণা এবং জ্ঞান উপস্থাপন। সাধারনভাবে, কোন নির্দিষ্ট কর্মসূচী/পরিকল্পনা প্রণয়ন বা সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য উপাদান হিসেবে যা ব্যবহূত হয় তাকেই তথ্য বলা হয়ে থাকে। তবে ‘তথ্য’ হতে হলে এটিকে অবশ্যই ঐ নির্দিষ্ট কাজের জন্য অর্থবোধক, নির্ভুল, প্রাসঙ্গিক এবং পুর্নাঙ্গ হতে হবে।
উপাত্ত: উপাত্ত বলতে এমন কিছু তথ্যকে বোঝায় যা নির্দিষ্ট কোনো চলকের বা এক সেট চলকের গুনগত ও পরিমাণগত ধর্মাবলিকে প্রকাশ করে। বেশিরভাগ সময় কোনো পরিমাপ প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ এসব উপাত্ত সংগৃহীত হয়। উপাত্তকে কানেকটিভিটি গ্রাফ, লেখচিত্র বা চলকসমূহের মান তালিকা রূপে উপস্থাপন করা হতে পারে। উপাত্তকে অনেক সময় সবচেয়ে নিচের স্তরের বিমূর্ত ধারণা হিসাবে দেখা হয়, যেখান থেকে তথ্য বা জ্ঞান আহরণ করা হয়ে থাকে।  ‘উপাত্ত’ হচ্ছে তথ্যের ক্ষুদ্রতম একক; যার অর্থ রয়েছে, কিন্তু এটি পূর্ণাঙ্গ নয়। কতিপয় ‘উপাত্ত’ একত্রিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘তথ্য’ তৈরি করে।
জ্ঞান: ‘জ্ঞান’ একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ “জানা”। প্রসঙ্গভেদে এই শব্দের একাধিক অর্থ করা হয় এবং প্রাচ্যের ধর্মগুলির একাধিক শাখায় এই শব্দের  প্রয়োগ দেখা যায়। বৌদ্ধ ধর্মে জ্ঞানের ধারণাটি একটি বৌদ্ধিক ধারণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।  সর্বোপরি জ্ঞান হচ্ছে তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল বা সিদ্ধান্ত। এটিকে আমরা অন্য একটি সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে ‘তথ্য’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। বেদে জ্ঞান বলতে বোঝায়? জীবের আত্মা ও সর্বোচ্চ সত্য ব্রহ্মের পূর্ণ একত্বের অনুভূতিকে। এই জ্ঞানকে বলা হয় “আত্মজ্ঞান”। আত্মজ্ঞান ব্রহ্মজ্ঞানের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। প্রকৃত জ্ঞান হল সেই জ্ঞান যা জীবকে ব্রহ্মের (যিনি পরমাত্মা নামেও পরিচিত) পথে চালিত করে। তিব্বতি বৌদ্ধধর্মে, জ্ঞান বলতে বোঝায় ধারণাগত বাধা সম্পর্কে সচেতনতা। এর বিপরীতে আছে বিজ্ঞান, যার অর্থ ‘খণ্ডিত জ্ঞান’।  শিক্ষা বা জানা আমাদের কুশলী করে, আমাদের নৈপুণ্য বাড়ায়, চেতনার প্রসার ঘটায় আর বাড়ায় বিদ্যা-বুদ্ধি । আমাদের এই ‘জানা’ যদি অভিজ্ঞতার আলোকে বোধের আওতায় এসে জীবনের প্রায়োগিক ক্ষেত্রে সফলতার সাথে প্রযুক্ত হওয়ার উপযোগী হয় তবেই তাকে বলতে হয় ‘জ্ঞান’ ।